২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র -তথ্যমন্ত্রী

‘২০৪১ সাল নাগাদ সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশকে একটি ‘সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার স্টেট’-এ পরিণত করতে যাচ্ছি আমরা। উন্নত রাষ্ট্রের পাশপাশি উন্নত জাতি এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে উন্নীত হওয়ার এ প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’  বললেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

আজ ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা রেড-অরেঞ্জ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন্স আয়োজিত ‘জার্নালিস্টস ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘আমাদের দেশের মেয়েরা কখনো ভাবেইনি যে, মাতৃত্বকালীন ভাতা দেয়া হবে, যেটা পশ্চিম ইউরোপে দেয়া হয়’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন দুস্থ মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা দেয়া হয়। আমাদের দেশে কেউ স্বামী-পরিত্যক্তা ভাতা দাবি করেনি, কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার স্বামী-পরিত্যক্তা ভাতা চালু করেছে। উন্নত দেশগুলোতেও এমন ভাতা দেয়া হয় না। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা দেশকে উন্নত রাষ্ট্র গঠনের পাশাপাশি ২০৪১ সাল নাগাদ একটি সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার স্টেটে রূপান্তরিত করতে চাই এবং সেই লক্ষ্যেই সব কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।’

ড. হাছান বলেন, ‘২০৪১ সাল নাগাদ আমরা যে স্বপ্নের কথা বলেছি, একটি উন্নত দেশ গঠনের পাশাপাশি আমরা যদি উন্নত জাতি গঠন করতে পারি সেজন্য কাজ করতে হবে। সেখানে সাংবাদিকদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি মানুষ গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল। এখন সেটির সাথে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। মানুষের মনন তৈরি করার ক্ষেত্রে, সমাজকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করার ক্ষেত্রে, সমাজের তৃতীয় নয়ন খোলার ক্ষেত্রে, অবহেলিতদের পক্ষে কথা বলার ক্ষেত্রে, যাদের ভাষা নেই তাদের ভাষা দেয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

রেড-অরেঞ্জ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন্স’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী এ কে এম মহিউল ইসলাম, সম্মানীয় অতিথি হিসেবে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের মিশন উপ-প্রধান জেরোয়েন স্টিজ (Jeroen Steeghs), আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের লাইন পরিচালক ড. আশরাফুননেছা ও প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেইন সভায় বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৯০ জন সাংবাদিককে সনদ ও এ বিষয়ে সেরা প্রতিবেদনের জন্য ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

ডেঙ্গু আর বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে অপরাজনীতি বিএনপি’র রাজনৈতিক দৈন্য সভা শেষে ডেঙ্গু এবং বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি’র মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, এখন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও সেটি কোনো মহামারী আকারে হয়নি এবং সরকার তা প্রতিরোধে সমস্ত কিছু করছে’। ডেঙ্গু শুধু বাংলাদেশে হয় তা নয়, এশিয়ার অন্যান্য দেশেও হয়। খুব দ্রুতই এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কিন্তু তাদের (বিএনপি’র) কথাবার্তায় মনে হয় কোনো মশা যদি কামড় দেয় তার জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী। এইভাবে কথা বলা তাদের রাজনৈতিক দৈন্যের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

এ সময় ‘বিএনপি ক’দিন পরপরই বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য খুব খারাপ, জীবন শঙ্কার মধ্যে এ কথাগুলো বলে’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বেগম খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্যে সরকার সমস্ত কিছু করছে। দেশের সর্বোচ্চ মেডিকেল বিদ্যাপীঠ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের সকল বড় ডাক্তার এই মেডিকেলের সাথে যুক্ত। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ক’দিন আগে বেগম খালেদা জিয়ার জিহ্বায় যখন কামড় লেগেছিল তখন তারা বলেছিলেন যে, বেগম জিয়ার জীবন শঙ্কার মুখে, কিছু খেতে পারছেন না।’

‘অর্থাৎ একটি ছোট্ট বিষয়কে তারা যেভাবে বলেছিলেন তা অত্যন্ত হাস্যকর এবং এখনও যা বলছেন, তা অপরাজনীতি এবং এতে তাদের রাজনৈতিক দীনতাই ফুটে উঠছে’, বলেন ড. হাছান মাহ্মুদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।