১৯৪৬ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে হিন্দু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রায় দেড় কোটি লোক ভারতে পালিয়ে আসে। গড়ে প্রায় ১০০০ লোক পালিয়ে আসছে। যারা সব কিছু ফেলে রেখে ভারতে আসছে, সবাই কি ভালো আছে? মোটেও না!!!
পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গাতেই মুসলমানদের প্রাধান্য। এখানেও পালিয়ে আসা বাংলাদেশীরা বিভিন্ন ভাবে নির্যাতিত। সুযোগ সুবিধা পাওয়া অনেক দুরহ ব্যাপার। এখানে সুন্দর জীবন গঠন করতে করতে অনেকেই মৃত্যু মুখে পতিত হয়। নিরবে নিভৃতে দেশের জন্য চোখের জল ফেলে। মায়া ছাড়তে পারে না বাংলাদেশের।
কিন্তু ভুলেও বাংলাদেশে থাকতে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াইয়ের মনোভাব তৈরি করে না। জীবন একটা যুদ্ধক্ষেত্র। যেখানে যাও, যেভাবেই থাকো, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তোমাকে অবশ্যই “যুদ্ধং দেহী” মনোভাব তৈরি করতে হবে। যে যুদ্ধটা তোমরা ভারতে গিয়ে প্রতিষ্ঠার জন্য করছো, সেই যুদ্ধটা বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় করছো না কেন?
ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। তৎকালীন লক্ষণ সেন পালিয়ে গেল বলে, এ ভূখন্ডে আর কোন বীরের জন্ম হবে না? অধিকার অর্জিত হবে না? সেটা ভাব কি করে? তোমরা চাইলেই তোমাদের সকল অধিকার ফিরে পাবেই। অধিকার প্রতিষ্ঠা হবেই।
চাওয়ার মত চাইতে জানলে সবই পাওয়া যায়। গ্রাম থেকে গ্রামান্তর, ইউনিয়ন থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা, জেলা থেকে বিভাগ, বিভাগ থেকে রাজধানী শহর সকলে মিলে গণ প্রতিরোধ গড়ে তোলো । এই হাত দিয়ে শুধু চোখের জল মুছো কেন? হাত অন্য কাছে ব্যবহার করতে পারো না? কেন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছো না?
তোমার ধর্ষিতা বোনকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে ভারতে পালিয়ে গিয়ে -নিরপরাধ একটা পুরুষের গলায় ঝুলিয়ে দিচ্ছো ! কেন তাঁকে দেশের বিয়ে দেওয়া বা বিয়ে করার মতো পুরুষ তৈরি হচ্ছে না? কি অপরাধ সেই ধর্ষিতা বোনের ? ছলে বলে কৌশলে নর -পিশাচরা শকুনের মতো তাঁর প্রতি কু-দৃষ্টি ক্ষেপণ করল বলেই, তাঁর লোকলজ্জায় ভয়ে আত্মহত্যা করতে হবে ?
কেন সংখ্যালঘু মেয়েরা এতো ধর্মান্তরিত হচ্ছে ? কেন সংখ্যালঘু তরুণরা যে-ভাবে প্রতিরোধে এগিয়ে আসার কথা সে-ভাবে এগিয়ে আসছো না? কেন ধর্ষক পুরুষের বিচারের জন্য তোমরা গণ -আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছো ? ধর্ষিত হলেই লজ্জা!!! এই প্রথা ভেঙ্গে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাও। এমন কিছু করো যাতে ঐ নর-পিশাচরা তোমার বোনের দিকে তাকাতে সাহস না পায়।
মূর্খ ও অসভ্য লোকেরাই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে- বেহেস্তে যাওয়ার আশায়। নিজ ধর্মকে পরিত্যাগ করে, ৭২ টা -হুরের আশায় জঙ্গি জীবন-যাপন করে। মৃত্যুর পর তারা সব চেয়ে নিকৃষ্ট – প্রজাতির কূলে জন্ম নেবে।
আমি ব্যক্তিগত-ভাবে অনেক ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থ গুলো পড়েছি। মানুষ হত্যা করে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা কোন ধর্মগ্রন্থেই নেই । তারপরেও যারা এটাকে শান্তির ধর্ম বলে প্রচার করছে , এর চেয়ে আর অশান্তির ধর্ম আর হতে পারে না।
ওরা নিজেরা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে কিছু উদ্ভট মতবাদ সমাজে প্রচার করে যাচ্ছে। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা এই সব নোরাং উদ্ভট মতবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। পৃথিবীর সভ্য সমাজে আজ যে সুন্দর পরিপাটি আমরা উপভোগ করছি , একদিন যেখানে জঙ্গল ছিল, পাহাড় ছিল, নদী ছিল। আজ সেখানে বহুতল ভবন, পার্ক, রেস্তুোরা, হাসপাতাল সহ জীবনের প্রয়োজনে নানা দিক, সুযোগ সুবিধা , এগুলো মানুষেরই সৃষ্টি।
তোমাকেও বাঁচার জন্য, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নতুনত্ব সৃষ্টি করতে হবে। জেনে রেখো – বীরের ইতিহাস সবাই লিখে ! পরাজিতরা অথৈ জলে হারিয়ে যায়। কেউ তাদের খবর রাখে না। তোমার দেশ, তোমার পৃথিবী, তোমার স্বপ্ন, তোমার লক্ষ্য তোমার হাতের মুঠোই। নিজেকে প্রশ্ন কর। তুমি কোথায় যেতে যাও?
লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে যাও। তুমি আপ্রাণ চেষ্টা না করলে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও তোমার দিকে তাকাবে না। তুমি হাত না উঠালে হাতের শক্তি পাবে না। পা না বাড়ালে হাঁটতে পারবে না। কেন মিথ্যে অহংকারে নিজেরা নিজেরা ১০২৮ টি সংগঠনে বিভক্ত হয়েছো? প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছো , তোমরা কি জানো না পরচর্চা পরনিন্দা পৃথিবীর সব চেয়ে গর্হিত কাজ ?
অন্যের ভালো নাই বা করতে পারলে , সমালোচনা করবে কেন? সকলের আর্দশ, উদ্দেশ্য যদি এক হয়- যদি মনে করো এই বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি, তাহলে আজ থেকে, এ মুহূর্তেই প্রতিজ্ঞা করো , সব কিছু ফেলে রেখে আর অন্য কোন দেশে পালিয়ে যাবো না। রিফিউজি হবো না।
ছিঁড়ে ফেল -আওয়ামীলীগ-বিএনপির বেড়া জাল। ডাস্টবিনে ফেল দাও নৌকা – ধানের শীর্ষের ব্যালট পেপার। পদ্মফুলকে হৃদয়ে ধারণ করো । মনে প্রাণে বিশ্বাস করো । গ্রহণ করো । তোমাদের অধিকার তোমরা ফিরে পাবেই। এ দায়িত্ব তোমার -আমার সকলের। সর্বোপরি তরুণ সমাজের ।
আহ্বানে
মিঠুন চৌধুরী
প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট, কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান আদিবাসী পার্টি
কোলকাতা, ভারত
৩০/০৪/২০১৭ ইং


