স্বর্ন ডলার এবং বৈদেশীক মুদ্রা পাচারের অভিযোগে কাষ্টমস সুপার মহানায়ক উত্তম সমদ্দার সাময়িক বরখাস্থ

মো: আনিছুর রহমান, বেনাপোল থেকে: বেনাপোল চেকপোষ্টের স্বর্ন ডলার সহ অন্যান্য বৈদেশীক মুদ্রা পাচার এবং পাচারকারিকে পালিয়ে যেতে সহায়তার  অভিযোগে মহানায়ক কাষ্টমস সুপার  উত্তম সমদ্দারকে অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জাতিয় রাজস্ব বোর্ড।

বুধবার সকাল ১০ টার সময় তাকে বেনাপোল চেকপোষ্ট থেকে তলব করে বেনাপোল কাষ্টমস হাউজে ডেকে নিয়ে সাময়িক বরখাস্থের চিঠি ধরিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কাষ্টমসের দায়িত্বশীল সুত্র।

গত ১৩ জুলাই বৈদেশীক মুদ্রা বাংলাদেশী টাকার  ১৫ লক্ষ টাকার সমমানের এবং ১৪ জুলাই বৈদেশীক মুদ্রা বাংলাদেশী টাকার  ৮৫ লাখ টাকার সমমানের এবং ১৬ জুলাই বাংলাদেশী ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা পাচারেরর  সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত সাপেক্ষে এবং আসামিকে পালিয়ে যাওয়ার সহায়তায় তার এর সাথে জড়িত থাকার প্রমান পাওয়ায়  তাকে কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্থ করেছেন।

উক্ত টাকা পাচারের সময় কাষ্টমস তল্লাশি কেন্দ্র পার হওয়ার পর গোয়েন্দারা গোপন সংবাদের মাধ্যমে পাচারকারিদের টাকা সহ আটক করলে উত্তম সমদ্দার গোপনে পাচারকারিকে পালিয়ে যাওয়ার সহায়তা করার অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে এবং ভিডিও ফুটেজে প্রমান মিলেছে বলে জানায় কাষ্টমস এর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
গত ৯ মাস পুর্বে উত্তম সমদ্দার বেনাপোল চেকপোষ্টে থাকা কালিন কয়েকবার এ পথে স্বর্ন ডলার পাচার হয়ে ভারত সীমান্তে বিএসএফ এবং কাষ্টমস এর হাতে ধরা পড়ায় উত্তম সমদ্দারের নাম উঠে আসে। কাষ্টমসের সুত্র তখন জানায় ঐ স্বর্ন পাচারকারিদের সুপারের রুমে বসে চা নাস্তা করতে দেখা গেছে। এর পর তাকে চেকপোষ্ট থেকে বদলী করে নিয়ে যাওয়া হয় কাষ্টমস হাউজে।

গত ১৪ ই জুলাই পাসপোর্টযাত্রী ফরিদ হোসাইন ঢাকার নবাগঞ্জ এলাকার রজব আলীর ছেলে ৮৫ লাখ টাকা নিয়ে ভারত থেকে আসার সময় কাষ্টমস তল্লাশি কেন্দ্র পার হওয়ার পর গোয়েন্দাদের কাছে থাকা গোপন সংবাদে টাকা সহ তাকে আটক করে কাষ্টমস রুমে বসিয়ে রাখে।তার পাসপোর্ট নং বিজে- ০৬৮২৩৩২। পরে সু কৌশলে উত্তম সমদ্দার তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে।

ফরিদকে পালিয়ে যেতে সহায়তার পর কাষ্টমস এবং কাষ্টমস গোয়েন্দাদের ভিতর চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। গোয়েন্দাদের প্রশাশনিক কর্মকর্তারা ঢাকা থেকে খবর পেয়ে তড়ি ঘড়ি করে বেনাপোল এসে কাষ্টমস এর  সাথে চাপা উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে তদন্ত শুরু করেন। এর পর তদন্তে বেরিয়ে আসে থলের কালো বড়াল উত্তম সমদ্দার এর সহযোগিতা করার নাম।

গোয়েন্দা ইন্সপেক্টর উম্মে  সালমা সুলতানা তখন এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছিল এ টাকার খবর তাদের কাছে একদিন আগে আসে । এবং টাকা গুলো জঙ্গি তৎপরতার টাকা হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।