আজ ৪৮তম বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর দিবস

আজ ৪৮তম বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর দিবস

আজ ১৬ মে ৪৮তম বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর দিবস। ১৯৭৪ সালের ১৬ মে এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বেরুবাড়ি ভারতের এবং দহগ্রাম,আসালং লাঠিটিলা ও পাথুরিয়া বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৭৪ সালের ১৬ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী  ইন্দিরা গান্ধী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির অধীনে ভারত বেরুবাড়ি ইউনিয়ন নং ১২ ছিটমহল টিকিয়ে রাখে এবং বাংলাদেশ দহগ্রাম- আঙ্গোরপোতা ভারতের সাথে ১৭৮ বাই-৮৫ মিটার (৫৮৪ ফুট × ২৭৯ ফুট) করিডোর প্রদান করে, যাকে বলা হয় তিন বিঘা করিডোর।

বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে দ্রুত এই চুক্তি অনুমোদন করে কিন্তু ভারত তা করতে ব্যর্থ হয়। পশ্চিমবঙ্গের দাইখাতা-৫৬, ত্রিপুরার মুহুরি নদী-বেলোনিয়া এবং আসামের লতিলা-দুমাবাড়ি তিনটি সেক্টরে প্রায় ৬.১ কিলোমিটার (৩.৮ মাইল) ভূমি সীমানার বিষয়টিও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। স্থানীয়দের বিরোধী সত্ত্বেও ১৯৯২ সালে তিন বিঘা করিডোর বাংলাদেশের কাছে লিজ দেওয়া হয়।

ছিটমহলের তালিকা ১৯৯৭ সালে দুই দেশ দ্বারা প্রস্তুত করা হয়। ২০০১ সালে ছিটমহলের তথ্য বিস্তারিত জানার জন্য দুটি যৌথ সীমানা ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। মে ২০০৭ সালে একটি যৌথ আদমশুমারি সম্পন্ন করা হয়। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারত বাংলাদেশের সাথে ১৯৭৪ সালের স্থল সীমান্ত চুক্তির জন্য অতিরিক্ত প্রোটোকল স্বাক্ষর করে। উভয় দেশ ১৬২টি ছিটমহল অদলবদল করার অভিপ্রায় ঘোষণা করেছে, যাতে বাসিন্দাদের জাতীয়তা পছন্দ সুযোগ রয়েছে।

এখানে বলে রাখা ভালো, ১৯৫৮ সালে সই হওয়া নেহেরু-নুন চুক্তিতে ছিটমহল বিনিময়ের উল্লেখ থাকলেও এ ব্যাপারে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সে দেশের সংবিধানের ১৪৩ ধারা সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চান। তখন আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবিধানের সংশোধনীর মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে হবে। পরে ভারতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে সংবিধান সংশোধনী আর জনগণনার অজুহাতে বিলম্বিত হয়েছে ছিটমহল বিনিময়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।