সালথার ঐতিহ্যবাহী লাঙ্গল-গরু বিলুপ্তির পথে

আবু নাসের হুসাইন: বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এই দেশের মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মানুষের জীবিকা নির্বাহ আসে জমির বিভিন্ন ফসল থেকে। তাই আগের দিনে জমি চাষ করার জন্য কৃষকরা সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে পান্তা ভাত আর কাচা মরিচ খেয়ে গরু ও লাঙ্গল নিয়ে মাঠে যেতেন।

কৃষকরা ভাটিয়ালী গান গাইতেন আর গরু ও কাঠের লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করতেন। তখন মধু বাতাস বইতো চাষীদের শরীরে। মনে ছিলো অনেক আনন্দ, ছিলোনা কোন দুশ্চিন্তা। সারাদিন জমি চাষ করে সন্ধায় খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তেন কৃষকরা। গরু ও কাঠের লাঙ্গল দিয়ে চাষ করলে ঐ মাটিতে ফসল ফলানোর উপযোগি হতো।

কোন প্রকার সার-ঔষুধ ছাড়াই জমিতে হরেক রকমের ফসল ফলতো। যদিও ফলন ছিলো কম, কিন্তু স্বাস্থ্য সম্মত ফসল উৎপাদণ হতো। বর্তমানে কলের লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করে সার-ঔষুধ ছাড়া ফসল ফলানো সম্ভব নয় বলে বৃদ্ধ বয়সের কৃষকরা দাবী করেন।

পাশাপাশি এই কলের লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করায় মাটির শক্তি আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলার সেই ঐতিহ্যবাহী লাঙ্গল আজ বিলুপিÍর পথে। বর্তমানে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকের কাধে আর সেই লাঙ্গল এবং চাষে ব্যবহাহৃত গরুও দেখা যায়নি।

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।