জনি চৌধুরী (চট্টগ্রাম প্রতিনিধি) : সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, ট্যাক্স প্রদানের ব্যাপারে আমাদের জনসাধারণের মনে এমন একটি ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, কোন রকমে ট্যাক্স দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারলেই লাভ।আজ সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি এন্ড ম্যাটস’র নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র এসব কথা বলেন। আমি আপীল নিষ্পত্তিতে আসা অনেক ট্যাক্স হোল্ডারদেরকে এটি বুঝাতে চেয়েছি যে, সমাজে অনেকেই আছেন যাদের ধুমপান,পান খাওয়া, দোকানে চা খাওয়ার অভ্যাস আছে।
দেখা যায়, দৈনিক রোজগারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উনারা এ খাতেই ব্যয় করেন। হিসাব করলে দেখা যায়, যা বছরে একটি বড় অংক। অথচ একটু সচেতনতা এবং মিতব্যয়ী জীবনাচারের মাধ্যমে উনারা একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ অংক বছর শেষে জমা করতে পারেন। উনারা তা করেন না। কিন্তু সরকারকে ট্যাক্স দেয়ার ক্ষেত্রে যত রকমের গড়িমসি। ট্যাক্স প্রদানে যদি জনসাধারণের সহযোগিতা না থাকে তাহলে দেশের উন্নয়ন হবে কোত্থেকে?দেশ এগিয়ে যাবে কি করে?
তিনি আরো বলেন, উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই সেদেশের সরকারের আয়ের অন্যতম উৎসই হচ্ছে জনসাধারণের ট্যাক্স। মধ্যপ্রাচ্যের কোন কোন রাজ্যে গত অর্থ বছরে কয়েকগুণ হারে ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। অথচ সেসব দেশের জনগণের এ ব্যাপারে কোন মিছিল,মিটিং বা আন্দোলন,সংগ্রাম নেই। সৌদিআরব এক লাফে তেলের দাম বিগত বছরের তুলনায় ডবল (শতভাগ) মূল্যবৃদ্ধি করেছে। কই ট্যাক্স বৃদ্ধি বা তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে জনগণের আন্দোলন,সংগ্রামের কোন সংবাদ তো কোন মিডিয়ায় প্রচারিত হয়নি। পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেখানে ট্যাক্স প্রায় ৫২ শতাংশ। আর আমাদের চট্টগ্রাম নগরে সরকার ধার্যকৃত ট্যাক্স হার মাত্র ১৭ শতাংশ। আর এই ট্যাক্স ইস্যু নিয়েই আমাদের কত মিছিল,মিটিং,আন্দোলন,সংগ্রাম। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যেন সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে জোরপূর্বক ট্যাক্স আদায়ে নেমেছে। আমাদের মিডিয়াগুলোও ফলাও করে এসব প্রকাশ করেছে।
এখন কথা হচ্ছে, জনগণকে সচেতন করা,সমাজের নানা অনিয়ম,অন্যায়কে অকুণ্ঠ চিত্তে প্রতিহত করা এবং দেশ উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য অপরাপর জনসমাজের সাথে মিডিয়ারও একটা ইতিবাচক,গঠনমূলক সামাজিক দায়িত্ব আছে।নাকি জনসাধারণের কৌতুহল আর গণমাধ্যমমুখিতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের মিডিয়াবন্ধুরা জনসমাজকে বিভ্রান্তির বেড়াজালে আটকিয়ে রাখতেই বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন?
প্রতিষ্ঠান অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অধিদপ্তর সচিব ডা.জাহিদুর রহমান,চসিক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, নাজমুল হক ডিউক, শৈবাল দাশ সুমন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.সেলিম আকতার চৌধুরী, কনসালটেন্ট প্রীতি বড়ুয়া প্রমুখ।
বক্তব্যে সিটি মেয়র প্রতিষ্ঠানে একটি লিফট,একটি জেনারেটর ও একটি হোস্টেল করে দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সরকারের আয়ের অন্যতম উৎসই হচ্ছে জনসাধারণের ট্যাক্স–মেয়র
এ বিভাগের আরো সংবাদ



