সরকারি টাকায় কুরআন পড়ানো যেতে পারলে গীতা-বাইবেল কেন না -হিমন্ত বিশ্বশর্মা

সরকারি টাকায় কুরআন পড়ানো যেতে পারলে গীতা-বাইবেল কেন না -হিমন্ত বিশ্বশর্মা
ভারত প্রতিনিধিঃ সরকারি টাকায় কুরআন পড়ানো হবে না। যদি কোরআন পড়ানো যেতে পারে তাহলে গীতা আর বাইবেল কেন পড়ানো হবে না? বললেন অসমের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
ডিব্রুগড়ের বিজেপি মহিলা মোর্চা বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, আমাদের আসামের জমিতে লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে একটি নতুন এবং কঠোর লড়াই শুরু করতে হবে। ‘আমার হিসেবে সরকারি টাকায় কোরআন পড়ানো সম্ভব নয়। যদি আমরা এমন করি, তাহলে আমাদের বাইবেল আর গীতা দুটোকেই সরকারি টাকায় পড়ানো উচিৎ। উনি বলেন, আমরা শিক্ষায় অভিন্নতা আনতে এবং এই প্রথা বন্ধ করতে চাই।
আসাম সরকার সমস্ত মাদ্রাসা বন্ধ করে তাদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে রূপান্তর করেছে, যা বহু ইসলামী- মনের মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে। সরকারী অর্থ দিয়ে কোরআন পড়ানো যায় না। যদি এমন হয় তবে বাইবেল এবং ভগবদ গীতাও পড়ানো উচিত।
তিনি বলেছেন এই প্রথাকে শেষ করে সাম্যতা আনার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (AIUDF) প্রধান ও সাংসদ সদস্য বদরুদ্দিন আজমল বলেছেন রাজ্যের বিজেপি সরকার যে সকল মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়েছে, তাদের দল সরকার করলে সেই মাদ্রাসা গুলিকে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কোন কোন রাজনৈতিক দল ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।
হেমন্ত বিশ্বশর্মা এই সময় ‘লাভ জিহাদ’ (Love Jihad) ইস্যুটি উত্থাপন করে বলেন যে মুসলিম ছেলেরা প্রায়শই নিজেকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে হিন্দু মেয়েদের বিয়ে করে। তিনি এটিকে ‘কারও বিশ্বাসকে ধোকা দেওয়া ‘ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে অনেক মুসলিম ছেলে হিন্দু নাম নিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলে এবং একটি মন্দিরের সাথে নিজের ছবি রাখে, যাতে কারোও মনে না হয় সে মুসলিম।
তিনি বলেন মেয়েটি যখন তাকে বিয়ে করে, তখন হঠাৎ করেই সে জানতে পারে যে যার সাথে তার বিয়ে হয়েছে সে মুসলিম। তিনি বলেন, এটা কোনও বিয়ে না, এটা সম্পূর্ণ জালিয়াতি মামলা।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আসামে বিধানসভা নির্বাচন আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে হবে। বিজেপি যদি পুনরায় ক্ষমতায় আসে তাহলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব যে কোনও ছেলে যদি ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে এবং আসামের কন্যা ও মহিলাদের নিয়ে কোনও নেতিবাচক মন্তব্য করে তবে তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।
তিনি আরো বলেন রাজ্য সরকার এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে এবং আগামী ৫ বছরে নিশ্চিত করা হবে যে এই বিয়েগুলি কাউকে ফাঁদে ফেলে নয়, স্বেচ্ছায় হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে আসাম সরকার এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।