সমস্যায় জর্জরিত কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা

সমস্যায় জর্জরিত কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত জনবল না থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। জনবলের প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায় শুধু নামেই ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। ৩১ শষ্যার আদলে কার্যক্রম চললেও নেই পর্যাপ্ত মেডিক্যাল অফিসার, কনসালটেন্ট, এক্সরেম্যান। কমলগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার একমাত্র কেন্দ্র কমলগঞ্জ- মৌলভীবাজার সড়কের গোপালনগর গ্রামে অবস্থিত কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কমলগঞ্জের পাশাপাশি কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নের মানুষও সেবা নিতে আসেন এই হাসপাতালে।

প্রতিদিন শত শত রোগী বহিঃবিভাগ ও অন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসলে বঞ্চিত হন কাঙ্খিত সেবা থেকে। ২০১৮ সালে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ভবন উদ্ধোধন হলেও ৬ বছর পরো জনবলের প্রশাসনিক অনুমোদন না হওয়ায় শুরু হয়নি কোন কার্যক্রম। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৩১ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ টি কনসালটেন্ট পদ থাকলেও ৩টি শুন্য। সম্প্রতি সার্জারি বিভাগে একজন কনসালটেন্ট যোগদান করেন। কিন্তু এনেসথেসিয়া কনসালটেন্ট না থাকায় চালু হচ্ছে না অপারেশন থিয়েটার। যে কারনে ছোট খাটো অপারেশনের জন্য রোগীদের জেলা সদরে রেফার্ড করতে হয়।

খাদিজা রহমান শিল্পী নামে একজন গাইনী কনসালটেন্ট কাগজে কলমে কমলগঞ্জ থাকলেও পেষনে কর্মরত আছেন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। এছাড়া মেডিসিন কনসালটেন্ট পদ থাকলেও তা শুন্য। ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ২ জন মেডিক্যাল অফিসারের পদ থাকলেও আছেন মাত্র ১ জন।

এক্সরে মেশিন সচল থাকলেও রেডিওগ্রাফার না থাকায় সেটি চালু করা যাচ্ছে না। উপজেলার কমলগঞ্জ সদর, আদমপুর ও মুন্সীবাজারে ৩টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও শুধুমাত্র সদরে আছেন ১ জন মেডিক্যাল অফিসার। রহিমপুর, পতনঊষার, মুন্সীবাজার, শমশেরনগর, আলীনগর, ইসলামপুর ও মাধবপুরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে মেডিক্যাল অফিসার পদ থাকলেও সে পদগুলো রয়েছে শুন্য। এর মধ্যে পতনঊষার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রর মেডিক্যাল অফিসার জান্নাতুল আদনীন দীর্ঘদিন থেকে অঅনুমোদিত ভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। ৫ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মধ্যে কর্মরত আছেন ৪ জন।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে গেলে পড়তে হয় নানা ভোগান্তিতে। নোংরা থাকে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহিরাঙ্গন। হাসপাতাল চত্বরে পর্যাপ্ত নলকুপ না থাকায় বিশুদ্ধ পানির জন্য রোগী ও স্বজনদের বেগ পেতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২টি গভীর ও ১টি অগভীর নকলুপ চালু আছে বলে দাবী করে। সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকের নিকটে একটি নলকুপ চালু থাকলেও সেটি থেকে পানি তুলতে কষ্ট পেতে হয় আগতদের।

জেনারেটর থাকলেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় সেটি বন্ধ রয়েছে। বিকল্প হিসেবে আইপিএস চালু আছে বলে দাবী করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যদিও রোগীরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে হাসপাতাল। গরমের সময় বেশী ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগীদের।

সরেজমিনে বিভিন্ন ওয়ার্ড এ দেখা যায়, মেঝে, সিঁড়ি, বারান্দায় যত্রতত্র ময়লা ফেলে রাখা হয়েছে। এমনকি রোগীদের বিছানার পাশেও আবর্জনা রয়েছে। পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে বাথরুমের দরজা খুললেই দুর্গন্ধ বের হয়। নতুন ভবনের কেবিনের বাথরুম গুলো পুরোপুরি নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভুইয়া জানান, জনবল সংকটের কথা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিক বার অবহিত করা হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করা হচ্ছে। নিউজের সাথে ছবি আছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।