লক্ষ্মীপুরে মেলা কেন্দ্রিক একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও অনৈতিক কাজের আশংকা!

লক্ষ্মীপুরে মেলা কেন্দ্রিক একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও অনৈতিক কাজের আশংকা!
লক্ষ্মীপুরে হযরত দেওয়ানশাহ মেলাকে কেন্দ্র করে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বন্ধ এবং নানা রকম অনৈতিক কাজের পরিকল্পনার করা হচ্ছে।
সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন পূর্বরাজাপুর গ্রামে হযরত দেওয়ান শাহ মাজারের দিঘীর পাড়ে প্রতি বছরের ন্যায় আগামী ১৫ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখে মেলা হওয়ার নানা প্রস্তুতি দৃশ্যমান। এই মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর নানা রকম অনিয়ম আর অপকর্মের সংবাদ পাওয়া যায়।
এই মেলার কারনে ১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কিন্টার গার্ডেন, ১টি মাদ্রাসা ও ১টি কমিউনিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বন্ধ থাকে সরকারী কোন নির্দেশনা ছাড়া।
এই মেলা যদিও হওয়ার কথা ছিল স্থানীয় মসজিদ এবং মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য। কিন্তু বর্তমানে এই মেলাকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার বানিজ্য হচ্ছে। যার ছিটে ফোটা ভাগও পায় না এই দুই প্রতিষ্ঠান । রাজনৈতিক লোকজন স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিজেরাই ভাগাভাগি করে নেয় সব টাকা। মেলায় আগত ব্যবসায়ীরা নানা রকমভাবে হয়রানীর স্বীকার হয় মেলা কমিটি এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দ্বারা যার কোন প্রতিকার দৃশ্যমান নয়।
এই মেলার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে চার বছর আগে একই পরিবারের ৬জনসহ মোট ৭জন নিহতের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও মেলায় প্রতিদিনই নানা রকম ছিনতাই, ইভটিজিং, চাঁদাবাজিসহ নানান অসংগতির খবর পাওয়া যায়। ২০২২ সালে নানা অনিয়মের কারনে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরান হোসেন ২৪ঘন্টার মধ্যে মেলা বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেন। একই সময় মেলার অনিয়মের কারনে সালে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওবায়দুল হক হিরনসহ ২জনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত। পরে তাদের মেলা বন্ধের শর্তে মুছরেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গত বছর বেপরোয়া ভাবে মেলায় জুয়ার আসর বসানো হলে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন’র নির্দেশে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ মেলার আসর ভেঙ্গে মেলা বন্ধ করে দেয়।
এলাকাবাসীরা বলেছেন, গত কয়েক বছর থেকে মেলাকে কেন্দ্র করে চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে এই মেলায়। এক সপ্তাহের কথা বলা হলেও প্রতিবছর মেলা চলে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে। এছাড়া মেলায় নানা অসামাজিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে উঠতি বয়সী কিশোররা।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হোসেন বলেন, অনুমতি ছাড়া কোন মেলা করতে দেয়া হবে না। অনুমতি পেলেও জুয়ার আসর বসবে না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।