রোহিঙ্গাদের হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট, খরচ ১ লাখ টাকা | ২ নারী আটক

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশি দালালদের সহায়তায় ভুয়া জন্ম সনদ নিয়ে পাসপোর্ট করতে গিয়ে কক্সবাজারে আটক হয়েছেন দুই রোহিঙ্গা নারী। আটক দুই নারীকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বুধবার বিকাল ৪টার দিকে জেলা পাসপোর্ট অফিস থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন প্রিন্স তাদের সাজা দেন।

ইউএনও বলেন, সকল চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউপি সচিবসহ সকলকে রোহিঙ্গা বিষয়ে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। যদি কেউ রোহিঙ্গাদের এদেশের নাগরিক হতে সহযোগিতা করেন- তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশি দালালদের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরীর চেষ্টা চালাচ্ছে। কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে গত ২ মাসে যাচাই-বাছাইয়ে প্রায় দেড় শতাধিক রোহিঙ্গার আবেদন শনাক্ত করা হয়েছে। একটি পাসপোর্ট করে দিতে দালালেরা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা। পাসপোর্ট অফিস প্রাঙ্গনের এক দালালের কাছে প্রাপ্ত তথ্যে এসব জানা গেছে। এই ব্যবসা মূলতঃ জমজমাট হয়েছে গত কয়েক বছরে। ইদানিং কড়া নজরদারি থাকায় ‘রেট’ আরও বেড়েছে বলে জানায় ওই দালাল।

কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৩ সেপ্টেম্বর টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের উত্তরপাড়ার বাসিন্দা পরিচয়ে ‘আলমআরা’ নামের এক নারী পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে। পরে পুলিশি তদন্তে (ভেরিফিকেশন) ধরা পড়ে সে এক রোহিঙ্গা। ৫ অক্টোবর পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ‘বিল্লাল হোসেন’ নামের এক ব্যক্তি। জাতীয়তা সনদ এবং ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ফটোকপিও যুক্ত করে সে। কিন্তু পুলিশি তদন্তে শনাক্ত হয় বিল্লালও রোহিঙ্গা। কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ায় ভুয়া ঠিকানা দেখিয়ে ১২ অক্টোবর পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে রোহিঙ্গা আব্দুল হাকিম। পুলিশি তদন্তে পরিচয় রোহিঙ্গা শনাক্ত হওয়ার পর তারা আর পাসপোর্ট অফিসে আসেনি।

আগের এবং বর্তমানসহ দেশে আশ্রিত মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। সুযোগ সন্ধানী রোহিঙ্গারা সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যেতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গোপনে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ৭০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যানরা মাত্র দুই-চার হাজার টাকার বিনিময়ে তাদেরকে নাগরিকত্ব সনদ দিয়ে দিচ্ছেন!

এই প্রতিবেদকের সামনেই গত সোমবার আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার সাথে কথা হয় আবেদন জমা দিতে আসা আবছার আলী নামে এক যুবকের। তিনি বলেন, তার ভাই সৌদি আরব থাকে। তিনিও সেখানে যেতে চান। তাই পাসপোর্ট করাতে এসেছেন। কিন্তু স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের নাম বলতে না পারায় রোহিঙ্গা সন্দেহে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বসিয়ে রাখা হয়েছে।

পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবু নাঈম প্রতিবেদককে বলেন, একদিনে গড়ে শ’দুয়েক আবেদনপত্র জমা পড়ে। লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়, এদের মধ্যে ৮০ ভাগ আবেদনপত্র লেখা হয়েছে দুই-তিন জনের হাতে। সত্যায়িতও হয় দুই-তিনজনের নামে। তিনি বলেন, ভুয়া জন্মসনদ, জাল জাতীয়তা সনদ ও এনআইডি যুক্ত করে দালালেরা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট আবেদন জমা দেয়। যাচাই-বাছাইয়ে গিয়ে তা ধরা পড়ে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য থানায় যেসব আবেদন পাঠানো হয় তার প্রায় ৩ শতাংশই রোহিঙ্গাদের। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিদারুল আলম বলেন, সর্বশেষ ৫ মাসে কয়েক হাজার পাসপোর্ট আবেদনপত্র যাছাই-বাছাই করেছেন তাঁরা। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৩৭টির ব্যাপারে আপত্তি জানানো হয়েছে। আপত্তি জানানো আবেদনের মধ্যে ২০ শতাংশই রোহিঙ্গা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।