রাণীশংকৈল প্রতিনিধি ॥ ঠাকুরগাও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চরমভাবে। প্রতিটি গ্রাহকের চলতি মাসের বিদ্যুৎ বিলের সাথে বকেয়া মাসের বিল সংযোগ করা হয়েছে। দেখা গেছে বকেয়া বিল পরিশোধ রয়েছে সিংহভাগ গ্রাহকের। বকেয়া বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকের সংখ্যা যত সামান্য হলেও প্রতিটি গ্রহককে হয়রাণীর ফাঁদে পড়তে হয়েছে।
ব্যাংক বা মোবাইল বিদ্যুৎ বিল সার্ভিসিং সেন্টারে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের প্রমাণপত্র দেখালেও চলতি মাসের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের ফেরৎ পাঠাচ্ছেন। বিদ্যুৎ বিলের কপি সংশোধনের জন্য উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ও পাশ্ববর্তী উপজেলার লোকজনকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৩০-৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রাণীশংকৈল জোনাল অফিসে আসতে হচ্ছে। শত শত গ্রাহকের ভীড় থাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা প্রতিটি গ্রাহককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে । সীমান্তবর্তী জগদল গ্রামের আইনুল হক জানান, আমি দিন মজুর, হাতে খাটি পেটে খাই। আমার গত মাসের বিল পরিশোধ থাকার পরও চলতি মাসের বিলের সাথে গত মাসের বিল যোগ করা হয়েছে। আজকের দিনটা আমি কাজ করতে না পারায় আমার সংসারে সমস্যা হবে।
ভন্ডগ্রামের ফারুক আহম্মদ বলেন, ব্যাংকে গেলে বিদ্যুৎ বিল জমা না নিয়ে আমাকে অফিসে গিয়ে বিল জমা করতে হয়েছে। এতে প্রায় ২ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল দিতে আসা এক বৃদ্ধ এলাকা পরিচালক নাসিরের সামনেই ভিড়ের চাপে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান। চেকপোষ্টে বাসির, কাশিপুরের বিউটি আক্তার সহ অনেকের সাথে কথা হলে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগকে হয়রাণী মূলক বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রাণীশংকৈল জোনাল কার্যালয়ের এজিএম এহতেসামুল মুঠোফোনে বলেন, গত মাসের বিল গ্রাহক পরিশোধ করলেও ব্যাংক আমাদের সে টাকা দেয়নি তাই আমরা গ্রাহকের নামে গত মাসের বিল যোগ করে দিয়েছি। গ্রাহকের ভোগান্তির ব্যাপারে তিনি বলেন যখন কোন সমস্যা হয় তখন গ্রাহককেও একটু ভোগান্তি পোহাতে হয়।


