জনগণকে বিভ্রান্ত করা কোনো রাজনীতিবিদের দায়িত্ব নয়; বরং মানুষকে ধৈর্য ধারণে উৎসাহিত করা, বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং দেশের কল্যাণে সঠিক পথ দেখানোই রাজনীতির দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা চায় বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাক। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের মানুষের কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিপুলসংখ্যক কর্মী ও শ্রমিকের শক্তিকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে।
চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে সরকারের চেয়ে কার্যকর পরিকল্পনা থাকলে তা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করতে সরকার প্রস্তুত। তবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হলে সংশ্লিষ্টদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা ও মিথ্যাচারের রাজনীতির দিন শেষ হয়েছে। অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংঘাত ও বিভ্রান্তির যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে এখন জনগণের কল্যাণে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাজনীতি করার সময় এখন নেই। জনগণও এমন রাজনীতি আর সমর্থন করে না। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হলে মাঠে নামতে হবে এবং দায়িত্বশীল বক্তব্য দিতে হবে।
ঢাকা-১৭ আসনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই এলাকার প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় কাজ করছেন। স্থানীয় একটি লেক পরিষ্কার করতেও দীর্ঘ সময় ও পরিশ্রম প্রয়োজন হয়। কাজ করা কঠিন হলেও সমালোচনা করা তুলনামূলকভাবে সহজ। তাই যারা শুধু সমালোচনায় ব্যস্ত, তাদেরও মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাস্তব কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনে দলটির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন রাজপথে ছিলেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির বহু নেতাকর্মী নির্যাতন, গুম, হত্যা ও হামলার শিকার হয়েছেন। এ সময় তিনি অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ১৯৭১, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, ২০২৬ সালেও ওই দলের পক্ষ থেকে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। এ ধরনের উসকানিমূলক রাজনীতি পরিহার করে জনগণের কল্যাণে কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে মানুষের উপকারে আসতে পারে—এমন পরিকল্পনা থাকলে তা সংসদে উপস্থাপন করতে হবে এবং জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। সরকার যৌক্তিক ও কার্যকর পরিকল্পনা হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানী সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানের শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।




