রনক্ষেত্র ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ভোট

বিশেষ সংবাদদাতা – ঢাকা  সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে ক্ষেত্র করে গতকাল ঘটে গেল তুমুল বিবাদ। টেবিল চেয়ার ছোড়াছুড়ি,ভোটের কাগজপত্র ছেঁড়া, ধাক্কাধাক্কি, অশ্রাব্য উক্তি, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ, জাল ভোটারের দাপট,  ভোট গননায় গাফিলতি, ফলাফল ঘোষণা  নিয়ে বিস্তর ঝামেলার মাঝে নির্বাচন কমিশনারের পালিয়ে প্রাণ বাঁচানো। স্বাধীনতা পরবর্তী সাংবাদিক জগতের ইতিহাসে এ হেন পরিস্থিতি কারো নজরে আসেনি। সেকারনে গতকালের ঘটনাবলি দেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়কে সূচিত করেছে। 

সংবাদ মাধ্যমকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। একটি দেশ ও জাতির অগ্রগতিতে স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের অসামান্য দায় ও দায়িত্বের কথা সর্বজনবিদিত। সংবাদ মাধ্যম একটি শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এসেছে শিল্প পুঁজি। এককথায় কর্পোরেট কালচার প্রবেশ করেছে। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের সাথে সম্পৃক্ত সাংবাদিক ও সংবাদ কর্মীদের মাস মাইনে, অন্যান্য সুযোগ সুবিধা, চাকরির নিরাপত্তার কোন নিশ্চয়তা নেই। দুএকটি বড় সংবাদ প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে বেশির ভাগ সাংবাদিকদের চাকরি আর বলার মত নয়। যৎসামান্য মজুরী দিয়ে অহরাত্র দাসবৃত্তি করার বাংলাদেশে এই পেশাকে তামাশার পর্যায়ে নিয়ে গেছে।  সর্বপরি কর্মক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জানমানের কোন নিরাপত্তা নেই। অনেক কর্মরত সাংবাদিককে গুম জেল প্রহার ভীতিপ্রদর্শনের সম্মুখীন হতে হয় নিয়মিত। সরকারী আশ্বাসন পাওয়া গেলেও বাস্তবে কোন নিরাপত্তা পাওয়া যায় না। সাংবাদিক ইউনিয়নের দায়িত্ব ছিল এই সমস্যাগুলির সমাধানে ব্রতী হওয়া। শাসক দলের কোন্দল, অনৈতিক কার্যকলাপ এই ভোটের মধ্য দিয়ে সামনে চলে আসায় সংবাদ জগতে অন্ধকার নেমে এলো।    

এবারের সাংবাদিক নির্বাচনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। জাফর ওয়াজেদ, জাফর সূর্য ও কুদ্দুসেরা নিজ দলবল নিয়ে ময়দানে নেমেছিল। গননা শেষে নির্বাচন কমিশনার ঘোষণা করতে শুরু করলেন  আবু জাফর সূর্য-সাজ্জাদ আলম খান তপু প্যানেল থেকে ৭১২ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন সূর্য। কুদ্দুস আফ্রাদ-সোহেল হায়দার চৌধুরী প্যানেল থেকে ৫৪৯ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সোহেল। সহ-সভাপতি পদে ৭০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন খন্দকার মোজাম্মেল, ৫৮৫ ভোট পেয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আক্তার হোসেন, সাংগঠনিক পদে ৬৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, কোষাধ্যক্ষ পদে ৯২৬ (সর্বোচ্চ ভোট) পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন উম্মুল ওয়ারা সুইটি, প্রচার সম্পাদক জিহাদুর রহমান জিহাদ পেয়েছেন ৭০৩ ভোট, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাসুদ ঢালি ৬৭৩ ভোট, জনকল্যাণ সম্পাদক ফারহানা মিলি ৫৬৯ ভোট, দফতর সম্পাদক আমিন মোহাম্মদ জুয়েল ৬১৬ ভোট পেয়েছেন। (আন অফিসিয়াল)। প্রবল বাঁধার কারনে পুরনাঙ্গ কমিটি তিনি আর ঘোষণা করতে পারেননি। সামনে যখন ভয়ংকর মারদাঙ্গা শুরু হয় ও নির্বাচন কমিশনারের প্রতি হুমকি ধামকি চলে, তিনি কোন প্রকারে মার খাওয়া থেকে বাঁচতে চেয়ার ছেড়ে উঠে পালাতে বাধ্য হন। তবে আজ পুরনাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার কথা আছে।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য সাংবাদিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করে দিনিউজকে বলেন ঐ কালকের নির্বাচন আদমজী শ্রমিক ইউনিয়নকেও হার মানিয়েছে। অনেক নোংরা খেলা,অনেক টাকা ছড়ানো নির্বাচন ছিলো, লক্ষ্য ছিল যেনতেন ভোটে জেতা ও সরকার বা প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সুবিধা বাঁকা পথে হাসিল করা। সাংবাদিকের স্বার্থে কাজ করা কারো কোন উদ্দেশ্যই ছিল না আজো নেই।  বাংলাদেশে সমস্ত সাংবাদিক মহল এই সাংবাদিক ইউনিয়নটির অধঃপতন দেখে আশাহত হয়েছে।      

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।