মূর্তিতে প্রাণ না এলে পৌত্তলিকাই সার -যোগী পিকেবি প্রকাশ

মূর্তিতে প্রাণ না এলে পৌত্তলিকাই সার -যোগী পিকেবি প্রকাশ

পূজা পার্বণের ঘটা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সাধারণত মাটির মূর্তি তৈরি করে দেবীর পূজা দেওয়া হয়। বাহ্যড়ম্বর খুব বেশী হওয়ায় নিষ্ঠা ও ভক্তিভাব যোজন ক্রোশ দূরে চলে গেছে।

আমরা মাটির মূর্তি তৈরি করে ঠাকুর প্রতিষ্ঠা করি, কিন্তু সঠিক উপায়ে প্রাণ প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় মাটির ঠাকুর মাটিই থাকেন। এর ফলে মাটির মূর্তি পৌত্তলিকাই সার হয়ে দাড়ায়। তাই ভাঙ্গলেও কোন প্রতিকার হয় না। কিন্তু যদি মাটির মূর্তিতে ব্রহ্মজ্ঞ ব্যক্তিদ্বারা সঠিকভাবে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয় তবেই প্রতিমা হয়ে ঠাকুর জাগ্রত হবেন, কথা বলবে, ভক্তের ডাক শুনবে, অপকারীকে শাস্তি দিবে।

শাস্ত্রে বলা আছে,  “প্রাণই ভগবান-ঈশ”। প্রাণবায়ুর ক্রিয়া অহঃরহ চলছে। তাকে দেখতে না পাওয়ার কারণ নেই। প্রাণরূপে বিদ্যমান তিনি, সর্বত্র সমান। প্রাণই ঈশ্বর, প্রাণই বিষ্ণু, প্রাণই ব্রহ্মা। সমস্ত লোক প্রাণেতেই ধৃত আছে, সমস্ত জগতই প্রাণময়। আমরা প্রাণ সমুদ্রে ডুবে আছি।

প্রাণ-ক্রিয়া করে নিজের প্রাণ প্রতিষ্ঠা স্থির করতে হবে। তারপরে মুর্তিতে ঠাকুরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে পূজা দিতে হবে। তবেই প্রাণে প্রাণ মিলন হবে। মাটির ঠাকুরে প্রাণ, পাথরের ঠাকুরে প্রাণ, নারায়ণ শিলায় প্রাণ, অশ্বত্থ বৃক্ষের মধ্যে সবিত্বমণ্ডল মধ্যবর্তী নারায়ন দেখতে না পেলে পৌত্তলিকাই সার হবে।

মূর্তি নির্মাণ করে আমরা তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে চিন্ময় দৃষ্টিতে দেখে পূজা করে থাকি। অথচ আমাদের জন্মের সঙ্গেই যে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে তার দিকে আমরা দৃষ্টি দেই না।

শাস্ত্রে বলা আছে,

উত্তমা সহজক্রিয়া মধ্যমা ধ্যান ধারণা

কনিষ্ঠা অজপা সিদ্ধি মূর্তিপূজা ধমাধম।

অর্থাৎ খুবই নিম্নস্তরের সাধনা হল মূর্তিপূজা। তার চেয়ে বড় হল অজপা। অজপার চেয়েও বড় হল ধ্যান-ধারণা এবং সর্বোত্তম হল সহজ সাধনা বা ক্রিয়াযোগ।

প্রকৃত পূজা করতে হলে ঘরে বসেও হয়। পূজা শব্দের ‘প’ অর্থে যোনি বা মূলাধার। ‘উ’ অর্থে বলপূর্বক। ‘জ’ অর্থে কূটস্থে থাকা। অর্থাৎ প্রাণবায়ুকে বলপূর্বক মূলাধার থেকে টেনে কূটস্থে স্থিতি করতে পারলেই প্রকৃত পূজা করা হয়।

ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন অর্থাৎ মূলাধারে কুণ্ডলিনী শক্তির ধ্যান করে কুণ্ডলিনী শক্তির জাগরণ ও মূলাধার ভেদ করে স্বাধিষ্ঠানে স্থাপন। সপ্তমীতিথিতে স্বাধিষ্ঠান ভেদ করে মনিপুর চক্রে অবস্থিত হয়। অষ্টমীতিথিতে দ্বাদশদল অর্থাৎ হৃদপদ্মে অনাহতচক্রে অবস্থিত বিষ্ণুগ্রন্থির ভেদ। নবমী পূজার দ্বারা ভ্রুমধ্যে দ্বিদলচক্রে অবস্থিত রুদ্রগ্রন্থির ভেদ। এইপর্য্যন্ত সগুণ রূপদর্শন। এরপর দশমী পূজার দ্বারা নাম ও রূপই রূপের বিসর্জন অর্থাৎ ক্রিয়ার দ্বারা কুণ্ডলিনী শক্তি ষট্‌চক্র ও গ্রন্থিত্রয় ভেদ করে সহস্রসারে ব্রহ্মরন্ধ্রে লীন হলে সর্ববৃত্তিনিরোধরূপ সমাধি দ্বারা মায়ের নির্গুণ চৈতন্যস্বরূপের উপলব্ধি। এই অবস্থায় জীবাত্মা আর পরমাত্মায় মিলে একাকার হয়ে একত্বের অনুভব হয়।

সাধকের সমাধিভঙ্গের পর “সর্বং ব্রহ্মময়ং জগৎ” অর্থাৎ সমস্তই ব্রহ্মময় অনুভব করেন এবং তখন আত্মভাবে সকলকে প্রেমে আলিঙ্গন করতে থাকেন। এজন্যই আমাদের দেশে মূর্তি বিসর্জনের পর আলিঙ্গনের প্রথা প্রচলিত আছে।

যোগী পিকেবি প্রকাশ(প্রমিথিয়াস চৌধুরী)

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ দ্যা নিউজ

চেয়ারম্যান, আনন্দলোক

পরিচালকঃ আনন্দম ইনস্টিটিউট অব যোগ এন্ড যৌগিক চিকিৎসা, ঢাকা।

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Dutta
লেখক / প্রতিবেদক

Dutta

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।