সুব্রত ঘোষ, বিশেষ প্রতিনিধি, বগুড়াঃ করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রভাব পড়েছে বগুড়ার প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে অলস সময় পার করছে বগুড়ার প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। বগুড়ার মহাস্থানগড় জাদুঘর ও বেহুলার বাসর ঘর থেকে প্রতি বছর সরকার প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা রাজস¦ আদায় করলেও চলিত অর্থ বছরে তা লোকসান হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের অধীনে বগুড়ার জেলায় যে কয়টি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে তার মধ্যে মহাস্থানগড় ও বেহুলার বাসর ঘর অন্যতম। প্রতিবছর সরকার এই দুই পর্যটন কেন্দ্র থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকে। চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে মহাস্থানগড়রে জাদুঘর, গোবিন্দ ভিটা, জাহাজঘাট ও বেহুলার বাসর ঘর থেকে ১ কোটি ৩২ লক্ষ টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল। বছরের শুরুর দিকে দর্শনার্থীদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত মাত্র ৮০ হাজার টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরে অধীনে বগুড়ার মহাস্থানগড়ের জাদুঘর, গোবিন্দ ভিটা, জাহাজ ঘাট ও বেহুলার বাসর ঘর থেকে প্রতি বছর সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতো বলে জানা গেছে। আর এই রাজস্ব দিয়ে সরকার দেশের উন্নয়নে কাজে ব্যয় করতো।
সূত্র জানায়, বিশ্বে ২০১৯ সালে নভেম্বর মাসে করোনা ভাইরাসের মহামারী শুরু হলেও বাংলাদেশে এই ভাইরাসের সংক্রমন শুরু হয় ২০২০ সালের মার্চ মাসে। আস্তে আস্তে সারাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন শুরু হলে ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে গত ১৮ মার্চ সরকার সারা দেশের সকল পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র ও পর্যটন কেন্দ্র গুলো অর্নিদিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করে। প্রতি বছরের জানুয়ারী মাস থেকে পর্যটন শিল্পের একটি রমরমা ব্যবসার সময় শুরু হয়। আর সেই রমরমা ব্যবসার সময় পিছু টেনে ধরে করোনা ভাইরাসের মতো এক সংক্রামক রোগ। ফলে বগুড়ার পর্যটন শিল্পে নেমে আসে মন্দা অবস্থা। হুমকির মুখে পড়ে মহাস্থানগড়ের জাদুঘর , বেহুলার বাসর ঘর থেকে আসা সরকারের রাজস্ব। প্রতিবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী অর্থ আদায় হতো বগুড়ার এই দুই পর্যটন কেন্দ্র থেকে।
মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষনার পর থেকেই মহাস্থানগড় ও বেহুলার বাসর ঘর এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের পথ বন্ধ হযে যায়।
সরেজমিনে জানা গেছে, মহাস্থানগড় যাদুঘর ও বেহুলার বাসর ঘর এই দুই পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে প্রতিদিন ২শ ভ্যান চলতো দর্শনার্থীরে বহন করার জন্য। অপর দিকে কটকটির ব্যবসা ,পানের ব্যবসা এবং অসংখ্য মানুষ মহাস্থানগড় এলাকায় বিভিন্ন ভাবে ব্যবসা বানিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করতো। করোনার ভাইরাসের প্রভাবে দর্শনার্থী না থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মহাবিপদে পরেছে। অনেকে অন্য ববস্যার করার চেষ্টা করছে।
জানাগেছে, প্রতিদিন মহাস্থানগড়ে ও বেহুলার বাসর ঘরের দৃশ্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন গড়ে ৩হাজার লোকের আগমন ঘটতো। দর্শনার্থীদের জন্য সরকার কতৃক টিকিটের মূল্য নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে। দেশী দর্শকদের জন্য মহাস্থানগড় যাদুঘর,গোবিন্দ ভিটা, জাহাজঘাট এবং বেহুলার বাসর ঘরের জন্য ২০ টাকা, বিদেশী দর্শকদের জন্য ২শ টাকা, সার্কভ’ক্ত দেশের দর্শকদের জন্য ১শ টাকা এবং মাধ্যমিক স্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ৫ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জায়া থেকে বিভিন্ন স্কুল – কলেজে থেকে শিক্ষা সফরে আসতো ডিসেম্বর মাস থেকেই ফলে বছরের শুরু থেকেই মহাস্থানগড় এলাকা জমজমাট থাকতো। করোনা ভাইরাসের কারনে এবার নেই কোন জনসমাগম। নিরবেই পড়ে আছে জাদুঘর, গোবিন্দ ভিটা, বেহুলার বাসর ঘর। জাদুঘরের টিকিট মাস্টার নিজমি উদ্দিন জানান,প্রতিবছর জানুয়ারী থেকে জাদুঘর দেখার জন্য প্রচুর দর্শনার্থী আসতো। টিকিট বিক্রি হতো দিনে ১ লক্ষ থেকে দেড় লক্ষ টাকার। যে হারে টিকিট বিক্রি হতো তাতে লক্ষমাত্রা অর্জন হতো।
মহাস্থান জাদুঘরের অফিস সহকারী মনিরুজ্জান জানান, দর্শনার্থী না থাকায় এবার লক্ষ্যমাত্র অর্জন না হওয়ার সম্ভবনা রযেছে। তিনি জানান, অফিসের ২৩জন কর্মচারী প্রতিদিন অফিসে আসে ,তারা জাদুঘর ও অন্যান্য সবকিছু পরিস্কার করে । দর্শনার্থী না থাকায় কর্মচারীরা অরস সময় কাটাচ্ছে বলে তিনি জনানা।
জপদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা জানান, বছরের শুরুর দিকে দর্শনার্থীদের আগমন চোখে পড়ার মতো ছিল। এ পর্যন্ত জাদুঘর থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং বেহুলার বাসরঘর থেকে ১৫ লাখ টাকা অর্জন করা সম্ভব হযেছে। তিনি জনান, করোনা ভাইরাসের প্রভাব এক-দুই মাসের মধ্যে কেটে গেলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।



