বোরাকে করে পৃথিবী সফর করার সৌভাগ্য হয়েছিল যে নবীর

বোরাকে করে পৃথিবী সফর করার সৌভাগ্য হয়েছিল যে নবীর

রজব মাসের শেষের এক রাতে নবী মুহাম্মদ সঃ কা’বা শরীফে ঘুমিয়ে ছিলেন। ফেরেশতা সরদার জিবরাঈল আঃ উনার পায়ে মৃদু টোকা দিয়ে জাগিয়ে দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি গভীর ঘুমে নিমগ্ন ছিলেন। রাসূল সঃ এবং জিবরাঈল আঃ দু’জন দুজনকে খুব ভালভাবেই চিনতেন। এই সময় জিবরাঈল আঃ কে দেখে রাসূল সঃ বুঝতে পারলেন নিশ্চয় কোন বিশেষ ওহী নিয়ে এসেছেন কারণ জিবরাঈল আঃ এর মধ্যরাতের আগমন মানেই ছিল কোন বিশেষ অহীর আগমন!

অহী সম্বন্ধে জানার আগেই রাসূল সঃ আঙ্গিনার দিকে দৃষ্টি দিলেন এবং সেখানে দেখলেন এক বিস্ময়কর প্রাণী। দেখতে অনেকটা ঘোড়ার মতই কিন্তু এটির পাখাও রয়েছে- সত্যিই এটি একটি পাখাযুক্ত ঘোড়া! কা’বার চত্বরে এই আজব ডানা ওয়ালা ঘোড়া দেখেই রাসূল সঃ বুঝতে পেরেছিলেন কোন স্মরণীয় সফর শুরু হতে যাচ্ছে।

রাসূল সঃ বোরাক নামক সেই জন্তুর উপর আরোহণ করলেন, সঙ্গে থাকলেন জিবরাঈল আঃ। রাতের আধাঁরের বুক চিড়ে তারা সফর শুরু করলেন আকাশ পানে, পাড়ি দিলেন মেঘমালা, তারকারাজীর পথে।

যখন তারা মাটিতে নেমে আসলেন, মুহাম্মদ সঃ দেখলেন উনারা জেরুজালেমের মসজিদুল আকসায় পৌঁছে গেছেন। মসজিদে এসে রাসূল সঃ দেখতে পেলেন পূর্বে মানব জাতিকে সত্য পথের দিশা দানকারী সকল নবী রাসূলগণ তার আগমনের অপেক্ষায় আছেন। সকলের সাথে সাক্ষাৎ শেষে তারা নামাজ আদায় করলেন। সেই নামাজের জামাতে সকল নবী ও রাসূল সম্মিলিতভাবে আল্লাহ ও তাঁর একাত্মতা ঘোষণা করছিলেন।

এরপর জিবরাঈল আঃ মুহাম্মদ সঃ এর সামনে দুইটি পেয়ালা নিয়ে হাজির হলেন। যার একটিতে ছিল দুধ আর অন্যটিতে বিশেষ পানীয় (মদ-ওয়াইন)। তিনি দুইটি পেয়ালাই এনেছিলেন এ জন্যে যে তিনি দেখতে চেয়েছিলেন   রাসূল মুহাম্মদ সঃ আসলে কোনটি গ্রহণ করেন!

রাসূল সঃ দুধের পেয়ালা বেঁছে নিয়ে তা পান করলেন, তা দেখে জিবরাঈল আঃ বুঝতে পারলেন রাসূল সঃ বিশেষ এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, কেননা তিনি সেই পেয়ালাই বেছে নিয়েছিলেন যাতে রয়েছে ভাল এবং তাঁর জন্য উপকার, তিনি সেই পেয়ালা গ্রহণ করেন নি যা এই জমিনের বুকে নিষিদ্ধ!

আবারো জিবরাঈল আঃ রাসূল সঃ কে বোরাকে চড়িয়ে যাত্রা শুরু করলেন, এবার যাত্রা আকাশের দিকে। আমি  জানিনা এমন একটি সফরের বর্ণনা কেমন হতে পারে, যেখানে রাতের আকাশকে অন্যরূপে অবলোকনের সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন! আকাশের পর আকাশ ভ্রমণ করে যে দৃশ্যাবলী তিনি দেখেছিলেন তা হুবহু বর্ণনাও করেছিলেন, যার কোন কিছুই তাঁর স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়নি! তিনিই একমাত্র নবী যিনি আকাশ ভ্রমণের এমন ভাগ্য লাভ করেছিলেন।

পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন

জীবরাঈল আঃ আবার রাসূল সঃ কে নিয়ে মক্কায় আসলেন। আসার পথে তারা একটি কাফেলার সন্ধান পেয়েছিলেন যারা মক্কার দিকেই এগিয়ে আসছিলেন। যখন সকাল হল, রাসূল মুহাম্মদ সঃ মক্কার লোকেদের গত রাতের সফর ও উর্ধ্বাকাশে পরিভ্রমণ সম্পর্কে বলতে লাগলেন, কিন্তু মাত্র কয়েকজন বিশ্বাসী ব্যক্তি ব্যতীত সবাই তাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে লাগল।

লোকেরা তাকে পাগল বলে ডাকতে লাগল, রাসূল মুহাম্মদ সঃ জেরুজালেম ও মক্কার দিকে আগত কাফেলা সম্বন্ধে পরিপূর্ণ বর্ণনা ও তাদের প্রশ্নের জবাব দেয়া সত্ত্বেও তারা এ মহামান্বিত বার্তাকে অবিশ্বাস করতে লাগল। এত  কিছুর পরও কিছু ব্যক্তি তার উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখলেন। এটি ছিল মুসলিমদের ঈমান পরীক্ষা করার এক মহান শিক্ষা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Ovi Pandey
লেখক / প্রতিবেদক

Ovi Pandey

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।