× Banner
সর্বশেষ
শ্যামনগরে প্রতিবন্ধী,দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে দুই লক্ষাধিক টাকার চেক বিতরণ শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২তম শাহাদৎবার্ষিকী অনুষ্ঠিত তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের জামিন বাতিল, আত্মসমর্পণের নির্দেশ লিবিয়ায় মাফিয়ার নির্যাতনে মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু পাইকগাছায় ছাত্র ও দরিদ্র মানুষের মাঝে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও ভ্যান বিতরণ মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর কমান্ডারের বাংলাদেশ সফর শেষ ভারতীয় হাইক‌মিশনা‌রের স‌ঙ্গে আইএবিডির প্রতি‌নি‌ধিদ‌লের সাক্ষাৎ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জবাব চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি ১১ দলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কা‌ছে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির পরিচয়পত্র পেশ

ডেস্ক

বন্যা ও পাহাড় ধসে ৪৪ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ

Kishori
হালনাগাদ: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
পাহাড় ধসে ৪৪ জনের মৃত্যু

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাত জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে বন্যা ও পাহাড় ধসে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। জেলায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ জন

চট্টগ্রামে বন্যা ও দেয়াল ধসের ঘটনায় ১১ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। বান্দরবানে পাহাড় ধস ও ঢলের পানিতে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মৌলভীবাজারে বন্যাজনিত ঘটনায় মারা গেছেন ১ জন

ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। জেলার ১৬টি উপজেলায় ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।

এরপর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজার, যেখানে ১০টি উপজেলার ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন মানুষ বন্যাকবলিত এবং ৩৯ হাজার ৫০৬টি পরিবার পানিবন্দি।

অন্যান্য জেলার মধ্যে:

  • খাগড়াছড়ি: ৯ উপজেলায় ২৭ হাজার ২২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত।
  • রাঙামাটি: ৯ উপজেলায় ৩ হাজার ৫২৪ জন।
  • বান্দরবান: ৭ উপজেলায় ৮ হাজার ৩৫০ জন।
  • মৌলভীবাজার: ৪ উপজেলায় ৩৮ হাজার ১৭২ জন।
  • হবিগঞ্জ: ৩ উপজেলায় ২৮ হাজার ১৪০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

দুর্যোগে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন হাজারো মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে। এসব কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তবে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ এখনও নিজ নিজ জলমগ্ন বাড়িতেই অবস্থান করছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। গত ৭ জুলাই দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে ৬ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুর্গত সাত জেলায় বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।

বরাদ্দের মধ্যে চট্টগ্রাম পেয়েছে ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৪০ লাখ টাকা, আর কক্সবাজার পেয়েছে ৪৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা। এছাড়া খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান—প্রতিটি জেলায় ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মৌলভীবাজারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা, আর হবিগঞ্জে ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা

যদিও স্থানীয় প্রশাসন দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, চাল ও নগদ সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে, তবু সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি সাড়াদান সমন্বয় অধিশাখার যুগ্মসচিব সেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, বন্যাকবলিত জেলার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, এনজিও এবং স্থানীয় সমাজকর্মীদের সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..