বঙ্গবন্ধুই বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদ থেকে নিয়ে যান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতাসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে রিটের শুনানিতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই বিচারকদের অপসারণের ব্যাপারে সংসদ থেকে ক্ষমতাটা নিয়ে গিয়েছিলেন।

আজ বুধবার ষোড়শ সংশোধনীর আপিলের শুনানিকালে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে রিটকারীর আইনজীবী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘যেটা বঙ্গবন্ধু নিয়েছিলেন, আমরা মনে করি, তাঁরই অনুসারী হিসেবে সেটা সমর্থন করা দরকার। যদি কেউ এটির বিরোধিতা করেন, তাহলে আমি মনে করি সেটি সঠিক হবে না।’

মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানিতে সব সময় বলার চেষ্টা করেন যে, ষোড়শ সংশোধনী করে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে গেছেন। এ বিষয়ে আমরা বলেছি, বাহাত্তরের সংবিধানের মূল চেতনা এবং যাঁর নেতৃত্বে আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধ হয়েছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যাঁর নেতৃত্বে সংবিধান প্রণীত হয়েছিল। সেই সংবিধানের প্রণেতা, আমাদের জাতির পিতার নেতৃত্বেই জাতীয় সংসদ থেকে বিচারক অপসারণের ক্ষমতাটা সংসদ থেকে নিয়ে আসার একটি আইন পাস হয়েছিল চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে।’ তিনি বলেন, ‘যেটি বঙ্গবন্ধু নিয়েছিলেন। আমরা মনে করি, তারই অনুসারী হিসেবে সেটিকে সমর্থন করা দরকার। যদি কেউ এর বিরোধিতা করেন, তাহলে আমি মনে করি, সেটি সঠিক হবে না।’

মনজিল মোরসেদ আরো বলেন, ‘১৫তম সংশোধনীতে তো বিচারক অপসারণের বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেল। সবার সঙ্গে আলোচনা করে এ আইনটা করা হলো। হঠাৎ করে কিছুদিন পরেই জনগণের পক্ষ থেকে কোনো সভা-সেমিনারে কেউ কখনো কোনো দাবি তোলেননি যে, এ আইনটির পরিবর্তন করা দরকার। কিন্তু কয়েকটি প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছিল।’

রিটকারী বলেন, ‘যেমন একটি মামলাকে কেন্দ্র করে আদালতের মন্তব্য নিয়ে স্পিকার রুলিং দিয়েছিলেন। স্পিকারের রুলিং নিয়ে আলোচনায় কয়েকজন সংসদ সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন যে ‘আমরা এই ক্ষমতটা সংসদে নিয়ে আসব।’ শুধু এ ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপরই এই ষোড়শ সংশোধনী করা হয়েছে।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘আমরা যুক্তিতে প্রথমেই ষোড়শ সংশোধনীর প্রেক্ষাপট তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। হঠাৎ করেই কেন এ সংশোধনী? আরেকটি যুক্তিতে বলেছি, অ্যাটর্নি জেনারেল আপিল বিভাগে বক্তব্য রেখেছিলেন যে, ১৫তম সংশোধনীটি ছিল কাটিং অ্যান্ড পেস্টিং, কোনো আলোচনা হয়নি।’ তিনি বলেন, ১৫তম সংশোধনী যখন পাস হয়, তখন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে পার্লামেন্টে আইন পাসের মাধ্যমে প্রোটেক্ট করা হয়েছিল। সে সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। সেই হিসেবে তাঁর নির্দেশেই ওই দিন সংশোধনী হয়েছিল।

আইনজীবী বলেন, ‘এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও আদালত অবমাননা আইনে সরকারি কর্মচারীদের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। আমরা রিট মামলা করায় হাইকোর্ট সেগুলো অবৈধ ঘোষণা করেন। এর কিছুদিন পরেই নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা ঘটে। সেখানেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জড়িত ছিলেন। হাইকোর্টের নির্দেশেই এটি অগ্রসর হয়েছে। এ সমস্ত সামগ্রিক বিষয়গুলোর কারণে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল।’

এর আগে গত ৮ ও ৯ মে এবং ২১, ২২ ও ২৩ মে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আজ তৃতীয় দিনের মতো শুনানি শেষে আগামীকাল সোমবার সাড়ে ১১টায় শুনানির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল।

সংবিধানে এই সংশোধনী হওয়ায় মৌল কাঠামোতে পরিবর্তন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করবে, এমন যুক্তিতে ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের (২০১৪) ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে ৯ নভেম্বর রুল জারি করেন। গত বছরের ১০ মার্চ মামলাটির চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৫ মে রায় দেন আদালত।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।