ফ্রান্সের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গ্যাব্রিয়েল আতালের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গ্যাব্রিয়েল আতাল (৩৪) আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী ও প্রথম সমকামী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। গ্যাব্রিয়েল আতাল বর্তমানে মাখোঁর মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ফ্রান্সের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ হিসেবেও উঠে এসেছিল গ্যাব্রিয়েল আতালের নাম। তিনি রেডিও শোতে ও পার্লামেন্টে স্বাচ্ছন্দ্যে একজন বুদ্ধিমান মন্ত্রী হিসাবে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। আতাল হবেন ফ্রান্সের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী এবং প্রথম প্রকাশ্য ঘোষিত সমকামী।
এই পদক্ষেপ এমানুয়েল মাখোঁর গত বছরের অজনপ্রিয় পেনশন এবং অভিবাসন সংস্কারের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করার এবং জুনের ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনে তার মধ্যপন্থী দলের জয়ের সম্ভাবনাকে এগিয়ে রাখার চেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। জনমত জরিপ দেখা গেছে, মাখোঁর শিবির প্রায় আট থেকে দশ শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে ডানপন্থী নেতা মেরিন লে পেনের দলকে।
গ্যাব্রিয়েলকে উদ্দেশ্য করে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সের এক পোস্টে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ লিখেছেন, আমি জানি, আমি আপনার শক্তি ও প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করতে পারি। আগামী জুনে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের নির্বাচন। ওই নির্বাচনে ফরাসি সরকারের নেতৃত্ব দিতে হবে গ্যাব্রিয়েল আতালকে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সরকারের রদবদলের অংশ হিসেবে গ্যাব্রিয়েল আতালকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে ১৯৮৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ৩৭ বছর বয়সী লোরাঁ ফ্যাবিউস।
এলিজাবেথ বর্নির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন গ্যাব্রিয়েল আতাল। দায়িত্ব গ্রহণের ২০ মাস পর বর্নি পদত্যাগ করেন। ২০২২ সালের মে মাসে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তার আগে ফ্রান্সের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এডিথ ক্রেসন। তিনি ১৯৯১ সালের মে মাস থেকে পরের বছরের এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
আর মাত্র তিন বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এমানুয়েল মাখোঁ। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বিতর্কিত নীতি ও বিক্ষোভের কারণে ফরাসি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর উন্নতির জন্য শাসনব্যবস্থায় কিছু সংশোধন প্রয়োজন। তারই জেরে মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এমানুয়েল মাখোঁ।


