× Banner
সর্বশেষ
ট্রাম্পের হেলিকপ্টারের কাছাকাছি যাত্রীবাহী বিমান, তদন্ত শুরু রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উদযাপিত: প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার আহ্বান স্বামী ভক্তিপ্রসাদ মধুসূদন গোস্বামী মহারাজের আবির্ভাব তিথি আজ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে স্মারক সংবর্ধনা হিরোশিমা দিবস: ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমার নির্মাণের নেপথ্যের বিস্ময়কর গল্প জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের স্মারক সংবর্ধনা আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় আজ ২০ শ্রাবণ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে শেখ হাসিনার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া প্রতিক্রিয়া বুড়িগঙ্গায় তরল বর্জ্য নির্গমনস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ

পি আই ডি

পশ্চিমবঙ্গে মন্দির/মসজিদ থেকে মাইক অপসারণ ও আইন প্রয়োগ, জনমনে স্বস্তির নিঃশ্বাস

admin
হালনাগাদ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
https://thenewse.com/wp-content/uploads/mike-in-mosgue.jpg

পশ্চিমবঙ্গে শব্দদূষণ প্রতিরোধ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপাসনালয়গুলোতে মাইক ও উচ্চশব্দের স্পিকার ব্যবহারে আদালতের নির্দেশিকা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নির্দিষ্ট ডেসিবেল মাত্রা (Decibel limit) মেনে চলার অংশ হিসেবে রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন মন্দির ও মসজিদ থেকে অতিরিক্ত মাইক এবং লাউডস্পিকার অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। মাইক অপসারণ

মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেয়ার হিড়িক পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মসজিদ থেকে। এটি একটি পুরনো আইন এতদিন কার্যকর করেনি বিগত সরকারগুলি ভোট রাজনীতির স্বার্থে। কিন্তু বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ধরনের জনহিতকর আইনগুলো একের পর এক কার্যকর করতে শুরু করেছে।

আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

শব্দসীমা নির্ধারণ: আবাসিক ও ধর্মীয় এলাকায় পরিবেশ আদালতের ধার্য করা শব্দসীমা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক সমন্বয়: পুলিশ স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় পরিচালন কমিটির সাথে আলোচনা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়ম বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

জনপথে চলাচলের শৃঙ্খলা:

সাধারণ মানুষের যাতায়াত সুগম রাখতে রাস্তায় যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে নির্দিষ্ট চত্বরের ভেতরে ধর্মীয় জমায়েতের নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে।

মসজিদ থেকে মাইক খুলে ফেলার ঘটনায় মুসলমানদের মধ্যে তেমন একটা প্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও বামেদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে। গো-বিকাশ এই ঘটনাকে মুসলমানদের প্রতি একটি নিপীড়ন মূলক আচরণ হিসাবে প্রচারের চেষ্টা করছে। তৃনমুল সরকারের পতনের পর বামেরা মুসলমানদের দুধেল গাই হতে চায়।তাই মুসলিমদের প্রতি তাদের দরদ উথলে ওঠেছে।

মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেয়ার ঘটনায় রাজ্যের মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি মনোভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। শব্দ দূষণের এই আইনটি বলবৎ করার জন্য রাজ্যের মানুষের বহুদিনের দাবি ছিলো কিন্তু কোন সরকার এমন একটি সর্বজনবিদিত আইনটি কার্যকর করেনি মুসলমানদের ভোট পাবেনা এই আশংকায়। কিন্তু বিজেপি ভোটের আশা প্রত্যাখ্যান করে জনগনের আশার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এইজন্য রাজ্যের মানুষের মধ্যে তৃপ্তির মনোভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।

এসব জনহিতকর আইনগুলো এতদিন ফাইল চাপা পড়ে ছিল। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রথমে রাস্তা আটকে নামাজ পড়া বন্ধ হয় তারপর প্রতিবাদের নামে পুলিশের অনুমতি না নিয়ে আল্লাহ হুয়াকব বলে ধর্মের নামে রাস্তায় নেমে পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ বন্ধ হয়। তারপর কুরবানী ঈদে সুপ্রিমকোর্টের গাইড লাইন মেনে পশু জবাই আইন বলবৎ হয়। এবার শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন এবং আদালতের নির্দেশকে কার্যকর করা শুরু হয়েছে।

এগুলো সব পুরনো আইন কিন্তু এতদিন কার্যকর করা হয়নি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে। কিন্তু বিজেপি সরকার মনে করেছে এগুলো জনস্বার্থে কার্যকর হওয়া খুব প্রয়োজন তাই কার্যকর হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলো মুসলমানদের তোয়াজ এবং ভোটের রাজনীতির জন্য এই আইনগুলো কার্যকর করেনি। কিন্তু বিজেপি মুসলমানদের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। মুসলমানদের চোখে বিজেপি শত্রু কারণ তারা তাদের তোয়াজ করেনা বেআইনি কাজ করতে উৎসাহ দেয়না।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে এই সরকার বদ্ধপরিকর কিন্তু বাম-কংগ্রেস ইসলামি দলগুলো মুসলমানদের মন জয় করার প্রতিযোগিতায় নানান মোসাহেবি কথাবার্তা বলে বিজেপি মুসলিম বিদ্বেষী দল প্রমাণ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কে মুসলিম কে হিন্দু না দেখে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে এতে হিন্দুদের মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রে চাপা উত্তেজনা লক্ষ করা যাচ্ছে। কিন্তু দিনশেষে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আইনের শাসনের কোন বিকল্প নেই।

সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

আইন প্রয়োগের এই পদক্ষেপকে নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ পরিবেশবান্ধব ও জনহিতকর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলেও, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের মধ্যে ইতিবাচক ও সমালোচনামূলক মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সরকারের দাবি—আইনের চোখে ধর্মীয় ভিন্নতা নির্বিশেষে সমান নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলসমূহ আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছে।

সামগ্রিকভাবে, নাগরিক সুরক্ষা ও শব্দদূষণ রোধের লক্ষ্যে পরিবেশ আইনের এই ধারাবাহিক বাস্তবায়ন রাজ্যে নতুন প্রশাসনিক চর্চার জন্ম দিচ্ছে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..