নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শারীরিক অসুস্থতার কারণে গতকাল মঙ্গলবার থেকে এক মাসের ছুটিতে গেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এবার বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেল, এই অসুস্থতার কারণেই প্রধান বিচারপতি তাঁর মেয়াদের আগেই অবসরে যেতে পারেন। ছুটির মধ্যেই পদত্যাগ করতে পারেন তিনি।
কয়েকটি সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতি তাঁর ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, শরীরের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিনি আর দায়িত্বে পালনে সক্ষম নন। তাই ছুটির মধ্যেই তিনি রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগ পত্র পাঠাতে পারেন।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অবসরে যাওয়ার কথা আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি। তবে পদত্যাগ করলে এর আগেই তাঁর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। আর বর্তমানে প্রধান বিচারপতির ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা।
এর আগে গত সোমবার রাষ্ট্রপতি বরাবার এক মাসের ছুটির আবেদন করেন প্রধান বিচারপতি। ওই সময় তিনি ছুটির কারণ হিসেবে অসুস্থতার কথা বলেন। পরে আইনমন্ত্রী অনিসুল হক জানান, প্রধান বিচারপতি ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত।
অবশ্য প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়ার সঙ্গে সরকারের সঙ্গে বিরোধের কথা ওঠে। তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিশ্চিত করেছেন, প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়ার সঙ্গে সরকারের সঙ্গে বিরোধের কোনো যোগসূত্র নেই। এবার বিচারপতির ঘনিষ্ঠ সূত্রেও তা নিশ্চিত হওয়া গেল।
১৯৯৯ সালের ২৪ অক্টোবর হাইকোর্টে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ২০০৯ সালের ১৬ জুলাই তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হন। ২০১৫ সালে তিনি প্রধান বিচারপতির হিসেবে নিযুক্ত হন। তাঁর প্রধান বিচারপতি থাকাকালে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মামলার রায় এসেছে। আবার তাঁর সময়েই ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় সহ বিভিন্ন বিষয়ে আদালতে স্মরণকালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে। পরে তাঁর মন্তব্য বিতর্ককে আরও উসকে দেয়। অবশ্য প্রধান বিচারপতির গত ছুটির (১০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর) সময়ই এই বিতর্ক অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়ে। তবে একটি মহল ও বিশেষ কিছু আইনজীবী প্রধান বিচারপতি ইস্যুকে কেন্দ্র করে ফাঁয়দা লোটার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বেঞ্চ পুনর্বিন্যাসের জন্যই বিচারপতিদের বৈঠক
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চ মিটিং ডেকেছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর সোয়া দুইটার সময় সব বিচারপতিকে ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে। আদালতের অবকাশকালীন ছুটির পর প্রধান বিচারপতি সিনহা যে বেঞ্চ পুনর্বিন্যাস করেছিলেন তা বাতিল করে বেঞ্চ নতুন করে পুন:গঠন করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
জানা গেছে, সব বিচারপতিদের অংশগ্রহণে বেঞ্চ পুনর্বিন্যাস করা হবে। হাইকোর্ট বিভাগের ৪৮টি বেঞ্চ একক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুন:গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। আজকের বৈঠকে বেঞ্চ পুনর্গঠন হবে সব বিচারপতির অংশগ্রহণ এবং মতামতের ভিত্তিতে। ফুল বেঞ্চে অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এদিকে বিচারপতিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে দাবি করে তাঁকে আদালতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিক্ষোভ শুরু করেন সুপ্রিম কোর্টের বিএনপিপন্থী আইনজীবী। পরে সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন ‘প্রধান বিচারপতির ছুটি নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। সমিতি বিকেল ৩ টায় তাদের পরবর্তী করণীয় নির্ধারনের জন্য বৈঠক করবেন।



