নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়ন, পেশাগত মর্যাদা ও বৈষম্য দূরীকরণসহ ছয় দফা দাবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সমন্বয়ে গঠিত ‘জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্য’ আত্মপ্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কভিড-১৯, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মহামারি ও দুর্যোগ মোকাবিলায় এসব পেশাজীবী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা অবহেলা, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন।’
তারা বলেন, ‘দক্ষ জনবল, আধুনিক প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষার সুযোগ, পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে জনগণের জন্য উন্নত ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এসব পেশাজীবীর দাবি বারবার উত্থাপিত হলেও বিভিন্ন সময়ে তা বাস্তবায়নে জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান। তাদের দাবি, দেশের ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে কার্যকর করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপন এবং ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারা বলেন, ‘এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন। তাই স্বাস্থ্য খাতে শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, সার্ভিস কাঠামো, প্রশাসনিক সুযোগ এবং সামাজিক মর্যাদার উন্নয়ন জরুরি।’
সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সমশিক্ষার ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা নার্স ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের দশম গ্রেড বা দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দেওয়া হলেও ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা দীর্ঘদিন ধরে একই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এ ছাড়া নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো, নিয়োগবিধি ও অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্তরে পদোন্নতি না দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের পেশাগত নিবন্ধন এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের স্বতন্ত্র কাউন্সিলের মাধ্যমে পেশাগত নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও জটিলতা রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসকের আনুপাতিক হারে নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না।
এসময় ছয় দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের দ্রুত দশম গ্রেড বা দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা প্রদান; নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের বিলুপ্তি বা অন্য অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ বন্ধ করে স্ট্যান্ডার্ড সেটআপ, নিয়োগবিধি ও অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন এবং যোগ্যতা-অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া।
এ ছাড়া ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের পেশাগত নিবন্ধন এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের স্বতন্ত্র কাউন্সিলের মাধ্যমে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জনবল ও পদ সৃষ্টি, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা-প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষার যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বৈষম্য দূর করে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন বাদশা, সদস্য সচিব এস এম মনিরুল ইসলাম সাদাফ ও বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ), বাংলাদেশ ডিপ্লোমা নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএনএ), বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস), বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএমএ), বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিপিএ), বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ (বিডিপি) এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

