নীল নদে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কি অবৈধ?

নীল নদে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কি অবৈধ?

পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘতম নদী নিলের পানি ওপর নির্ভর করেই দেশটির ‘গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (জিইআরডি)’ নামক বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।  পূর্ব আফ্রিকায় ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অঞ্চলের স্থলবেষ্টিত দেশ ইথিওপিয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাধার পানিপূর্ণ করার কজা শেষের ঘোষণা দিয়েছে। আফ্রিকার বৃহত্তম বাঁধ প্রকল্পে শেষ ধাপে পানিপূর্ণ করার ঘোষণা আসার পরই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে নদ অববাহিকার দেশ মিসর। নীল নদের পানিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ অবৈধ নীল নদের পানি নিয়ে ইথিওপিয়া, সুদান ও মিসরের বিবাদ দীর্ঘদিনের।

ইথিওপিয়া জিইআরডি প্রকল্পটির ঘোষণা দেয় ২০১১ সালে। বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে থাকা মানুষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে তারা এই প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যায়। রবিবার চূড়ান্ত ধাপের কাজ সমাপ্তির কথা জানিয়ে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী শান্তিতে নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব আবি আহমেদ ঘোষণা দেন, ‘অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা অনেকবার পিছিয়ে গেছি।

আমাদের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বাইরের দিকেরও নানা চাপ ছিল। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় আমরা সব কিছুর সঙ্গে খাপ খাইয়েছি।’
তবে আবি আহমেদের এই ঘোষণা কিছুটা আশ্চর্যজনক খবর হিসেবেই এসেছে। কারণ ২০২১ সালে তিন দেশের মধ্যে নীল নদের পানি সমস্যা নিরসনের আলোচনা শুরু হয়ে পরে থমকে যায়।

গত মাসেই সেই স্থবির হয়ে যাওয়া বৈঠক আবারও শুরু হয়। এই আলোচনা শুরুর ১৫ দিনের মতো সময় অতিবাহিত হওয়ার পরই আবি আহমেদ তাঁর ঘোষণা দিলেন। মিসর ও সুদান বলছে, ৪২০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটি নিল নদের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত করবে। এই দুই দেশ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট জলাধার পূরণ না করতে আবি সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে আসছিল। ইথিওপিয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জিইআরডি প্রকল্পকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছে।

কায়রো বলছে, নীল নদকে কেন্দ্র করে একতরফা পদক্ষেপ নিচ্ছে ইথিওপিয়া। ফলে ভাটির দেশ মিসর ও সুদান এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পানি ভাগাভাগির আলোচনার জন্য বিষয়টি উদ্বেগজনক। উল্লেখ্য, ইথিওপিয়ার ঘোষণার পর সুদান এখনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

১.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ জিইআরডি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উচ্চতা সর্বোচ্চ ১৪৫ মিটার। ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে সুদান সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে এই প্রকল্প স্থাপন করা হয়েছে। পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এই প্রকল্প থেকে। এর মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে যাবে দুই গুণের মতো। আদ্দিস আবাবা বলছে, তাদের প্রকল্পের কারণে নদের পানির ধারার কোনো পরিবর্তন হবে না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।