দেউলিয়া হয়ে গেছে পাকিস্তান

দেউলিয়া হয়ে গেছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, পাকিস্তান দেউলিয়া হয়ে গেছে। শিয়ালকোটে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে খাজা আসিফ এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান ইতিমধ্যে ঋণখেলাপি হয়ে গেছে; দেউলিয়া দেশে বসবাস করছে পাকিস্তানবাসী। আর এর জন্য দেশের সব রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ী সহ সবাই দায়ী।

পাকিস্তানের এই মন্ত্রী বলেন, দেশটিতে দামি সরকারি জমিতে যে দুটি বিলাসবহুল গলফ কোর্স আছে, সে দুটি বিক্রি করলে দেশটির এক-চতুর্থাংশ ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, গত ৩৩ বছরের তিনি পাকিস্তানের সংসদ সদস্য। এর মধ্যে ৩২ বছর ধরেই তিনি রাজনীতির অবক্ষয় দেখছেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কথাও বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তান এখন পর্যন্ত ২৩ বার আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের দ্বারস্থ হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া তারাই একমাত্র দেশ – যারা ৭৫ বছরের মধ্যে এত বার আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের কাছে হাত পেতেছে। এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে দায়ী করে খাজা আসিফ আরও বলেন, আড়াই বছর আগে পিটিআই সরকার সন্ত্রাসীদের পাকিস্তানে ঢুকতে দিয়েছে, এর কারণেই এখন দেশটিতে হামলা বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএমএফের শর্ত মেনে নতুন করারোপ ও পেট্রলের দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। এমন অবস্থা যে হবে, সেটা অনেক দিন ধরেই দেশটির জনগণ শঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। পাকিস্তান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যে – সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিই বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে বোঝা গেল। বর্তমানে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ সপ্তাহে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এক লিটার দুধের দাম ২৫০ রুপি এবং এক কেজি মুরগির মাংস ৭৮০ রুপি। আটার দামও অত‍্যাধিক। মূল্যস্ফীতি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না সরকার। এহেন পরিস্থিতিতে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যে ১০ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিক্রয়কেন্দ্র খুলেছে কানাডার নামী কফি ব্র্যান্ড টিম হর্টন। দেশের দুরবস্থার মধ্যেও লাহোরে এই ব্র্যান্ডের দোকার খোলার পর থেকে, সেখানে পা ফেলার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বক্ষণই ক্যাফের বাইরে দেখা যাচ্ছে, কফির জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের দীর্ঘ সারি।

ভয়াবহ আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ইতিমধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএমএল-এন ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) জোট সরকার। এই পরিস্থিতিতে কেন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন ও ভাতা কমবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল দেশটির প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

চলমান অর্থনৈতিক সংকট মেটাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকারি ব্যয় হ্রাস করে কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেনপ্র তিরক্ষা মন্ত্রীখাজা আসিফ। এই পরিস্থিতিতে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সহ পিএমএলের (এন) ১২ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও তিনজন প্রতিমন্ত্রী বিনা বেতনে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে জোট সরকারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল পিপিপি এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।