মন্দিরের গেটে মসজিদের দানবাক্স ঝোলানোর পোস্টে আটক ঝুমন জামিন পেলেন আজ

মন্দিরের গেটে মসজিদের দানবাক্স ঝোলানোর পোস্টে আটক ঝুমন জামিন পেলেন আজ

মন্দিরের গেটে মসজিদ নির্মাণে দান বাক্স ঝোলান নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মাম্লা হয় সাল্লার ঝুমন দাস আপনের নামে। নতুন মামলায় শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন সুনামগঞ্জের ঝুমন দাস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ বা উষ্কানিমূলক মন্তব্য করবেন না, এমন শর্তে তাকে ছয় মাসের অন্তবর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তার আইনজীবী তাপস কান্তি বল।

আজ রবিবার ১৩ নভেম্বর বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের বেঞ্চ তাকে জামিন দেন।

আইনজীবী তাপস কান্তি বল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত গত ২৬ সেপ্টেম্বর তাঁর জামিন নামঞ্জুর করলে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়।

শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে ঝুমন দাসকে ছয় মাসের অন্তবর্তী জামিন দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ বা উষ্কানিমূলক মন্তব্য করতে পারবেন না তিনি। ’

ঝুমন দাসের বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে। শাল্লা থানার পুলিশ তাঁকে গত ৩০ আগস্ট দুপুরে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে শাল্লা থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুমনুর রহমান বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরেরদিন তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। ঝুমন দাস সেদিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ঝুমন দাসের বিরুদ্ধে একই থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত বছরের ২২ মার্চ আরেকটি মামলা করেছিল পুলিশ। ওই মামলায় তিনি প্রায় ছয় মাস কারাগারে ছিলেন। মামলাটি এখন সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে আছে।

হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া ঝুমন দাসের একটি পোস্টের জেরে গত বছরের ১৭ মার্চ সকালে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা হয়। হামলার ঘটনার আগে ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা শহরে আয়োজিত এক সমাবেশে হেফাজত নেতা মামুনুল হক বক্তব্য দেন। পরে মামুনুল হককে নিয়ে নিজের ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দেন বলে অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ১৬ মার্চ রাতে পুলিশ তাঁকে আটক করে।

এ ঘটনায় শাল্লা থানায় মামলা হয় তিনটি। এর মধ্যে দুটি হয় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায়। অন্য মামলাটি পুলিশ করে ঝুমন দাসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। এই মামলায় তিনি প্রায় ছয় মাস জেল খাটার পর হাইকোর্ট থেকে এক বছরের জন্য ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জামিন পান।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নতুন বা দ্বিতীয় মামলায় গত ৪ সেপ্টেম্বর আদালতে জামিন চেয়েছিলেন ঝুমন দাস। সেখানে জামিন না হওয়ায় গত সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবার জামিনের আবেদন করা হয়। সেদিনও তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। এরপর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন ঝুমন দাস।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।