জাজিরা প্রান্তে ‘পদ্মা সেতু জাদুঘর’ – এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সেতু মন্ত্রী

জাজিরা প্রান্তে ‘পদ্মা সেতু জাদুঘর’ – এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সেতু মন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, কারিগরি উৎকর্ষের এক অনন্য নিদর্শন পদ্মা সেতু। এটি গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্মুক্ত পাঠশালা হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া, উন্নয়নের সাথে পরিবেশের মেলবন্ধন ঘটাতে চায় সরকার। সেতু এলাকায় ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ সেই টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আগামী পাঁচ বছরে মোট ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতু সাইট অফিসে সেতু বিভাগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এবং শরিয়তপুর জেলার জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু জাদুঘর-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে আজ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, এই জাদুঘরটি নির্মাণের মাধ্যমে আমরা সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব এবং প্রকৌশলবিদ্যার এই বিস্ময়কর যাত্রাকে সংরক্ষণ করছি। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখান থেকে দেশপ্রেম ও স্বনির্ভরতার প্রেরণা পাবে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হলো, তা এই সেতুর চারপাশকে একটি পরিবেশবান্ধব সবুজ বলয়ে পরিণত করবে।

এ কর্মসূচির আওতায় পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তে আগামী পাঁচ বছরে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছসহ সর্বমোট এক লাখ বৃক্ষ রোপণ করা হবে। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পদ্মা সেতু এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়নের পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হবে।

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ সেতু। সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কি.মি. এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার। ২০০২-২০০৫ অর্থবছরে প্রকল্পটিরসম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয় এবং উক্ত সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মাওয়া প্রান্তে সেতুর অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেন। এ প্রেক্ষিতে ভূমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়।

জাদুঘরটি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মূল প্রকল্পে একটি আধুনিক জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা কিন্তু বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে জাদুঘর নির্মাণ করা হয়নি। এই যাদুঘর নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ১ এপ্রিল ২০২৬ হতে ১ এপ্রিল ২০২৮ পর্যন্ত। এই জাদুঘরে সেতুর পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তের দলিল, দুর্লভ আলোকচিত্র, ডিজিটাল মডেল এবং নির্মাণে ব্যবহৃত বিশালাকার যন্ত্রপাতির অংশবিশেষ সুসংগতভাবে সংরক্ষণ করা হবে। পদ্মা সেতুর নির্মাণসংশ্লিষ্ট তথ্য, গবেষণা উপকরণ ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক নমুনা ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান ও সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সরদার একেএম নাসির উদ্দীন, শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম, সেতু বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।