× Banner
সর্বশেষ
শ্যামনগরে প্রতিবন্ধী,দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে দুই লক্ষাধিক টাকার চেক বিতরণ শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২তম শাহাদৎবার্ষিকী অনুষ্ঠিত তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের জামিন বাতিল, আত্মসমর্পণের নির্দেশ লিবিয়ায় মাফিয়ার নির্যাতনে মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু পাইকগাছায় ছাত্র ও দরিদ্র মানুষের মাঝে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও ভ্যান বিতরণ মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর কমান্ডারের বাংলাদেশ সফর শেষ ভারতীয় হাইক‌মিশনা‌রের স‌ঙ্গে আইএবিডির প্রতি‌নি‌ধিদ‌লের সাক্ষাৎ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জবাব চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি ১১ দলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কা‌ছে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির পরিচয়পত্র পেশ

জরুরী কাজে নিয়োজিত: শিল্পী হ্যাপীর অদম্য স্পৃহা

SDutta
হালনাগাদ: রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫

ফারজানা মৃদুলা

নারায়ণগঞ্জের এক কোণায় বসে, নিঃশব্দে রঙতুলির সঙ্গে কথা বলেন এক সহজ মনের শরৎ প্রেমী এক নারী। তার প্রতিটি ছবি যেন একটা নিঃশব্দ কবিতা, প্রতিটি ডিজাইন যেন জীবনের অভিমত। তাঁর আঁকা শুধু নিজের জন্য নয়, সে তার ছোট্ট ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও রঙের জাদু ছড়ায়। শিশুদের চিত্রাংকনে হাত ধরিয়ে দিয়ে সে তাদের স্বপ্নের দুয়ার খুলে দেয়। বলছিলাম রঙতুলি কন্যা শারমিন সুলতানা হ্যাপীর কথা।

হ্যাপীর ভালোবাসা ছড়িয়ে আছে রঙ, গান আর ঋতুর মাঝে। তার হৃদয়ে গেঁথে আছে একটি গান, ভূপেন হাজারিকার ‘মোর গায়ের সীমানায় নিশিথ রাত্রির প্রতিধ্বনি শুনি…।
এই গানের প্রতিটি শব্দ যেন তার একান্ত অনুভব, তার শিল্পীসত্তার গভীরতম আর্তি।

বাবা-মায়ের আদুরী কন্যা ছেলেবেলায় নারায়নগঞ্জ আদর্শস্কুল থেকে শুরু হাতেঘড়ি। আরবির চাপের কারনে স্কুল বদল করে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ শ্রেনী পাশ করে নারায়নগঞ্জ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং সরকারী তোলারাম কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশাপাশি নারায়নগঞ্জ চারুকলা থেকে প্রান বি এপ এ ও বি এফ এ শেষ করে ইউডা থেকে এম এফ এ থেকে ইতি টানেন।

তার জীবনে নতুন আশার নাম একমাত্র পুত্র রুপাই।
রুপাই যেন তার মনের দর্পন। একটি ছোট মুখের হাসিতে তিনি আবার বাঁচতে শেখেন, আবার আঁকতে চান, আবার স্বপ্ন দেখতে চান।

“আঁকাআঁকি বুটিকস” তার হাত ধরে গড়া এক স্বপ্নের উঠোন।
সেখানে বিক্রি হয় না শুধু কাপড়, বিক্রি হয় আত্মবিশ্বাস, সৌন্দর্য, আর নারীর উদ্যম।

চলার পথে জীবনসঙ্গীর অবদান আছে, তবে সে সম্পর্ক বর্ষার আকাশের মতো, কখনো প্রশান্ত নীল, কখনো হঠাৎ ঝড়ো। কখনো পাশে দাঁড়ানো সাহস, আবার কখনো একেবারে নিঃস্ব করে দেওয়া নীরবতা। এই ওঠানামার মধ্যেই শিখে নিয়েছেন কীভাবে নিজের ভেতরের আলোটা ধরে রাখতে হয়।

মন খারাপ হয়, হয়তো নিঃশব্দে কাঁদেনও, কিন্তু থেমে যান না।
কারণ তিনি জানেন, প্রতিটি আঁচড়েই আছে তার আত্মার ছায়া, আর প্রতিটি স্বপ্নেই তার জীবনের মানে।

একজন সৃষ্টিশীল মানুষের জন্য কাজের রিভিউ মানেই একধরনের আয়না।
ভালো রিভিউ পেলে তার মুখে ফুটে ওঠে এক সহজ আনন্দের হাসি,
“আহা! কেউ বুঝেছে আমার শ্রমের মর্ম।”
এই স্বীকৃতি তাকে টেনে তোলে নতুন সৃষ্টির পথে, দেয় আত্মবিশ্বাস, দেয় বেঁচে থাকার রঙ। আর যদি কোনো রিভিউ হয় নেতিবাচক?
তবুও থেমে যান না। বরং সেই শব্দগুলোকেই নেন সতর্কবার্তা হিসেবে
“এবার আরও ভালো করবো।”

রংতুলি কন্যার বিশ্বাস, নারীদের প্রথম বিজয় চৌকাঠ পেরোনো। তারপর চার দেয়ালের ভেতর থেকে নিজেদের আলাদা পরিচয় গড়া। ১৭ই ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া এই নারী নিজেকে গড়েছেন ধীরে ধীরে, রঙ আর তুলির ভেতর দিয়ে।

যে মানুষগুলোর জন্য সবকিছু করতে চেয়েছেন, তারাই যখন নিজেদের স্বার্থে পাল্টে যায়, তখনই তিনি সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েন।
তবুও তিনি হার মানেন না।

তার চোখে ভেসে বেড়ায় একটি বিশেষ স্বপ্ন
একটা গাড়ি, যার গায়ে লেখা থাকবে “জরুরী কাজে নিয়োজিত”।
সেই গাড়ি দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলবে, বহন করবে “আঁকাআঁকি বুটিকস”-এর পণ্য, শিল্প, আর তার ভালোবাসার বার্তা।

আরেকটি স্বপ্ন, একটি ছবি আঁকার আসর, যেখানে বয়স নয়, মনটাই হবে বড়।
বাচ্চা, বৃদ্ধ, কিশোর, গৃহিণী, সবার জন্য খোলা থাকবে সেই উঠোন।
যেখানে সবাই মন খুলে আঁকবে, কথা বলবে, হাসবে।
একটি ভালো লাগার জায়গা, মন ভালো করার জায়গা, যেখানে কেউ কাউকে ছোট করবে না, বদলায় না স্বার্থে।

কারণ তার হৃদয়ে এখনও রয়ে গেছে এক শিশুর মতো স্বপ্ন,
“এই জীবন শুধু আমার না, সবার মুখে হাসি দেখার জন্য।”


এ ক্যটাগরির আরো খবর..