আত্রাই প্রতিনিধিঃ ঘটনা ঘটেছে আত্রাই উপজেলার সমসপাড়া বাজারে গত ৩১ তারিখ রোজ শনিবার। ঘটনার বিবরণে জানাগেছে সমসপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সমসপাড়া নীবাস ইসমাইল হোসেন এবং তার পরিবারের মধ্য দীর্যদিন ধরে জমি নিয়ে বিবাদ চলছিল।
উভয় পক্ষ জমির বৈধ্যে মালিক দ্বাবী করে পাল্টা পাল্টি দখল নেওয়ার চেষ্টাও করছে কেউ খুঁটি পুঁতে কেউ ছাত্র-ছাত্রী ব্যাবহার করে। গত শনিবার শেষ পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রী কে বিবাদমান জমি দখলের কাজে ব্যবহার করেন বিদ্যালয় কতৃপক্ষ ।
প্রশ্ন আসে যদি যদি খুঁটি বেড়া নির্মান করে জায়গার মালিক হওয়া যেত তাহলে কাগজ পত্রের দরকার কি? আর জায়গা যদি স্কুলের যথাযথ হয়ে থাকে তাহলে আইন আদালতে না গিয়ে তারা কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী’দের এমন কাজে ব্যাবহার করলো কেন? জমি জায়গা কাগজ পত্রের ব্যাপার তা দখল করতে ছাত্র-ছাত্রী ব্যাবহারের কোন প্রশ্নই আসেনা।
স্কুল কতৃপক্ষ আদালতের আশ্রয় নিতে পারতো! তা না করে তারা বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী কে জমি দখলের কাজে মাঠে নামালেন তাতে যদি কোন প্রকারের ক্ষতি হত তার দায় ভার বহন করতো কে? বেসরকারি স্কুল কলেজ পরিচালনা নিতীমালা কোন অবস্থাতেই ছাত্র-ছাত্রী ব্যাবহার করার অনুমতি প্রদান করেনাই, এসব জিজ্ঞাসা তো থেকেই যায়!
আর জেনে বুঝে প্রধান শিক্ষক এমন কাজ করলেনই বা কেন তা বোধগম্য নয়। এছাড়াও স্থানিয়দের প্রাধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই, তাঁদের অভিযোগ প্রধান শিক্ষক স্কুলের জায়গা জমি, দোকান পাট লীজ বরাদ্দ নিয়ে প্রায় কোটি টাকা পকেটে পুরেছে। কেউ কেউ বলছে উন্নয়ন হয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিদ্যালয়ের নয়।
বিদ্যালয়ের টাকা দিয়ে তিনি জায়গা কিনে বাড়ি করছে শহরে। এসব কথার গুরুত্ব নেই এই কারণে যে এ সমস্ত অভিয়োগ দেখভালের জন্য তাঁদের মননীত স্কুল পরিচালনা পর্ষদ আছে। যা হোক যা লিখছিলাম, ছাত্র-ছাত্রী’রা বিদ্যালয়ে যাবে বিদ্যা অর্জনের জন্য লাঠিয়ালি করার জন্য নয়, প্রধান শিক্ষক সাহেবকে তা বুঝতে হবে।
ছাত্র-ছাত্রী উস্কে দেওয়ার অপরাধ কতৃপক্ষ যদি আমলে নেয় তাহলে বিষয় কি দ্বারায় তা দেখার বিয়ষ। পরিতাপের বিষয় কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী’রা নিজেরাও জানেনা কেন তাদের কে দলবেঁধে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু ছাত্র-ছাত্রী’র সঙ্গে কথা বলে জনাগেছে তাদের স্যার বিদ্যিলয়ের জমি দখলের কথা বলে নিয়ে গেছে তাই তাঁরা গেছে, অনেকে বিষয়টির কিছুই যানেনা।

বিবাদমান জমি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ভাষ্য ১৯৭৮ সালে ইব্রাহিম, সারেজান ও মমেজান বিদ্যালয়ের অনুকূলে তাদের দালিলিক সম্পত্তির মধ্য থেকে ২ দাগে ৬৭ শতক জমি রেজিষ্ট্রি করে দেন। এরপর থেকে অদ্যাবধি জমিটি খেলার মাঠ হিসেবে বিদ্যালয়ের দখলে রয়েছে।
সম্প্রতি ইব্রাহিমের ছেলে বিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন জমির মালিকানা দাবি করে সেখানে সিমেন্টের পিলার পুঁতে মাঠ দখলের চেষ্টা করে। আর ইসমাইল হোসেনের বলেছেন ” আমার বাবার দেওয়া ৩১/ ০৫/ ৭৮ সালের ৫৭৭৫/১৯৭৮নং যে দলিল মুলে স্কুল জায়গার মালিক বলে দ্বাবি করছে তখন আমার বাবা ঐ সম্পতির মালিক ছিলেন না,
উক্ত সালে আমার বাবার নামে পাওয়ার রেজিট্রেশন হয়নি বিধায় রেজিট্রেশন সঠিক নয়। উক্ত জায়গা জমি নিয়ে গত ১১/০৬ /১৭ তারিখে নওগাঁর বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর (জি পি) মোস্তাফিজুর রহমান কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা করে তাঁর অভিমতে লিখেছেন ‘ বর্ননাকারীর বর্ননা মত সরবরাহকৃত সকল দলিলাদি খতিয়ান আদিও কাগজআদি পুংখানুপুংখ ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও পর্যালোনায় দেখা যায় যে,
আত্রাই সাব- রেজীষ্ট্রার অফিসের গত ইং ৩১/০৫/৭৮ তারিখের ৫৭৭৫/১৯৭৮ নং রেজীষ্ট্র বিক্রয় কবলা দলিলের তফশিলেে লিখিত সাবেক ৫৯৭ দাগের প্রকৃত পরিমান ৫১ ডেঃ এবং হাল ৫৪৫ নং দাগের প্রকৃত পরিমান ৫১ ডেঃ এর স্থলে ৬২ ডেঃ জমি লিখা আছে। আত্রাই সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে ইংরেজী ২৩/০৩/ ৬৫ তারিখের ৩০০৩৮০( তিন লক্ষ তিনশত আশি) নম্বরে আদৌ কোন দলিল রেজীস্ট্রি হয় নাই কারণে আত্রাই সাব- রেজিষ্টার অফিসের ৫৭৭৫/১৯৭৮ নং রেজিষ্ট্রীকৃত বিক্রয় কবলা দলিলের তফশিলে লিখিত সাবেক ৫৯৭ নং দাগ মোতাবেক হাল ৫৪৫ নং দাগের সম্পত্তিতে উক্ত দলিলের দাতাগণ ১। হাজি মোমেজান বিবি ২। মোঃ ইব্রাহিম মণ্ডল ৩।মোসাঃ সরেজান নেসা বিবি ইং ২৩/০৩/৬৫ তারিখের আত্রাই সাব-রেজিষ্টার অফিসের ৩০০৩৮০( তিন লক্ষ তিনশত আসি) নম্বর দলিল মূলে কোন মালিকানা স্বত্ব অর্জন করে নাই।
তাছাড়া উক্ত দাতা অন্য কোন উপায়ে প্রাপ্ত হয়েছেন তার প্রমান দেখা যায়না। সেই কারণে ভূয়া দলিলের বর্ননায় একটি কাগজিক দলিল দ্বারা হাজি মেমেজান গংদের কোন স্বত্ব অর্জন করেনাই সেই কারণে তাহাদের ইং ৩১/০৫/৭৮ তারিখের ৫৭৭৫/১৯৭৮ নং রেজিষ্ট্রিকৃত দলিল বিক্রয় কবলা মূলে জেলে রাজশাহী, থানা আত্রাই এর অন্তগত সমস পাগা দ্বীমুখি উচ্চবিদ্যালয়ের পক্ষে সেক্রেটারি বরাবর হস্তান্তর আইন সন্মত নয় বলে প্রতিয়মান হয়’। তাই দুপক্ষের কাগজআদি দলিল পত্র নিয়ে আইনের দারস্থ হয়ে সঠিক সমাধান নিয়ে জমি ভোগদখল করা যথার্থ বলে বিবেচিত হতে পারে।তা নাহলে যে ক্ষতির সম্ভবনা আছে তা কোন পক্ষের পূরণ করা সম্ভব হবেনা।




