চীনের ট্রাম্পকার্ড কিম!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বাগযুদ্ধ শুরু হয়। এরমধ্যে গেলো বছরের শেষদিকে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে ওয়াশিংটনের চক্ষুশূলে পরিণত হয় পিয়ংইয়ং। কিন্তু কোনোভাবেই পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে।

তারপরও দমানো যাচ্ছিল না উত্তর কোরিয়াকে। বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ওপেন সিক্রেট’ বড় ভাই চীনের আশীর্বাদপুষ্ট হয়েই স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যেতে থাকেন কিম। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে হঠাৎ করে কোরিয়ান উপদ্বীপে শান্তির বাতাস বইতে শুরু করে। আচমকা ঘোষণা দিয়ে ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে শীতকালীন অলিম্পিকে যোগ দেয় উত্তর কোরিয়া। শুধু তাই নয় সেখানে তার বোন কিম ইয়ো জং-কে পাঠান কিম জং উন।

মূলত এরপর থেকেই শান্তি আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার অন্যতম মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। ওই আলোচনা আদৌ হবে কিনা আর হলেও সফল হবে কিনা সেটি নিয়ে আশঙ্কাবাদীর সংখ্যাও কম নয়। অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিন্তু শুরু থেকেই আশাবাদী। এমনকি ট্রাম্পের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিআইএ প্রধান মাইক পম্পেও-ই নাকি ওই আলোচনার ব্যাপারে বেশি উৎসুক। তবে উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ব্যাপারে নাকি আগ্রহ ছিল না তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের। তাই তাকে চাকরি থেকে হাত ধুতে হয়।

তবে ঐতিহাসিক ওই বৈঠকের ব্যাপারে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব পেয়েছেন সিআইএ প্রধান মাইক পম্পেও। এজন্য তিনি উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গেও নাকি বৈঠকে বসবেন।

ওই বৈঠকের ব্যাপারে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগ্রহ আছে, সেটা কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেছেন তিনি। কিন্তু ওই বৈঠক কবে-কোথায় হবে সেটি নিয়ে এখনও একমত হতে পারেনি উভয়দেশের কর্মকর্তারা। উত্তর কোরিয়া চাইছে বৈঠকটা পিয়ংইয়ংয়েই হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বৈঠকটা যেন নিরপেক্ষ কোনো স্থানে হয়। সেক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের প্রথম পছন্দ মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটার। তবে কোনো কিছুই এখনও ঠিক হয়নি নয়।

এদিকে গেলো মাসে চীন সফরে যান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সফরে বেইজিং থেকে পাঠ নিয়েছেন কিম। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে চীনের প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়েছে। পাল্টা জবাব দিচ্ছে চীনও। কিন্তু ট্রাম্পের জন্য ট্রাম্পকার্ড হিসেবে উত্তর কোরিয়াকেই নাকি ব্যবহার করবে চীন।as

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।