সৈকত দত্ত, শরীয়তপুর থেকে:
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এ এইচ পি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। এতে পাঠদানে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায় অনেক সময় বিদ্যালয় ছুটি দিতে বাধ্য হয় শিক্ষকরা। বিদ্যালয় মাঠে দীর্ঘ দিন যাবৎ বাজার বসলেও দেখার কেউ নাই। প্রভাবশালী বণিক সমিতি বিদ্যালয় মাঠে হাট বসানোর ব্যবস্থা করেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসহায়ের মতো বলেন বিদ্যালয় মাঠে বাজার বসা ঠেকাতে সীমানা প্রাচীর তৈরী করবেন।
চন্দ্রপুর এ এইচ পি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অভিভাবক সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর যাবৎ চন্দ্রপুর এ এইচ পি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাট বসায় বাজারের ইজারাদার আঃ হালিম মোল্যা। সহযোগিতায় থাকেন জালাল বেপারী, নুরুল হক বেপারী সহ কয়েকজন উপ ঠিকাদার। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দোকানীরা বিভিন্ন প্রকার পশরা সাজিয়ে বসে বিদ্যালয় মাঠে। দুপুর ১২টার মধ্যে বিদ্যালয় মাঠ কানায় কানায় ভরে যায় দোকান পাটে। কলরব শুরু হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে। নানা প্রকার মানুষ আসে বিদ্যালয় মাঠ বাজারে। এই সুযোগে অনেক বখাটেরা বিনা অনুমতিতেই ঢুকে যায় শ্রেনী কক্ষে। উত্যেক্ত করে নবম-দশম শ্রেনীতে পড়–য়া ছাত্রীদের। বাধ্য হয়েই বন্ধ করতে হয় পাঠদান।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শনি ও মঙ্গলবার সকাল থেকে বিদ্যালয় মাঠে হাট বসে। নানা মতের মানুষ আসে হাটে। অনেক সময় ক্যাম্পাচাররা সাউন্ড সিস্টেম ও মাইক বাজিয়ে শব্দ দূষণ করে। হাটের উসিলায় অনেক বখাটেরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ছাত্রীদের উত্যাক্ত করে। বহুদিন যাবৎ এ ব্যবস্থাপনায় চলতে থাকায় বিদ্যালয় সুনাম হারাচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণ চায় তারা।
শিক্ষার্থী অভিভাবকগণ বলেন, জেলার অন্য কোন বিদ্যালয় মাঠে হাট বসতে দেখিনি। এ বিদ্যালয়ে দেখি পাঠদান বন্ধ করে হাট বসায়। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে অনেক বলেছি। কোন সমাধান পাইনি। এবার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নতুন সভাপতি হয়েছে মেহেদী জামিল। এখন তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি দেখি সে কি করে।
চন্দ্রপুর বাজারের সাব ইজারাদার জালাল বেপারী বলেন, বাজারের মূল ইজারাদার হালিম মোল্লা। আমরা হালিম মোল্লার নিকট থেকে বাজারের বিভিন্ন অংশ সাব ইজারা নিয়ে খাজনা তুলি। পূর্বে স্কুল মাঠে গরুর হাটও ছিল। ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যা হয় তাই গরু হাট সরিয়ে নিয়েছি। এখন শুধু কাঁচা বাজার বসাই।
চন্দ্রপুর বাজারের ইজারাদার আব্দুল হালিম মোল্যা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চন্দ্রপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু কাঁচা জিনিসপত্র আসে তাই বিকাল ৩টা থেকে বিদ্যালয় মাঠে বাজার বসে। তাতে বিদ্যালয়ের কোন সমস্যা হয় না।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রায় ১০ বছর যাবৎ বিদ্যালয় মাঠে হাট বসে। এতে শনি ও মঙ্গলবার বাধ্য হয়ে বিদ্যালয় ছুটি দিতে হয়। এ বছর কোরবানীর সময় গরুর হাট বসাতে চেয়েছিল। বিদ্যালয়ের তখনকার সভাপতি এডিসি (সার্বিক) মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সরাসরি নাকোচ করেছে। শনি ও মঙ্গলবারের হাট বসানো থেকে রেহাই পাচ্ছি না। বর্তমান সভাপতি মেহেদী জামিলকে বলেছি বিদ্যালয় মাঠের চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল করার জন্য। বাউন্ডরী ওয়াল হলে হয়তো হাট বসানো থেকে রেহাই পাব।


