কালীগঞ্জে ১৪৪ ধারা অমান্য করে বোনের জমির গাছ কেটে বিক্রি করলো ভাই

কালীগঞ্জে ১৪৪ ধারা অমান্য করে বোনের জমির গাছ কেটে বিক্রি করলো ভাই

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বোনের পৈত্রিক ফারাজের প্রায় ৯ শতাংশ জমির বড় বড় ২টি রেইনট্রি গাছ কেটে বিক্রি এবং মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মালিযাট ইউনিয়নের পারখিদ্দা গ্রামে। এ ঘটনায় গত ২৩ আগষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোন কাজ হয়নি।

অভিযোগের বিবরনে জানা গেছে, উপজেলার পারখিদ্দা গ্রামের মৃত আব্দুল গণী বিশ^াসের ১ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে মোছা রোকেয়া বেগম (৫৫) ছোট। আজ থেকে আনুমানিক ৩০ বছর আগে ওই জমিতে রোকেয়া বেগমের স্বামী মৃত শাহজান শেখ কয়েকটি রেইনট্রি গাছ রোপন করেন। এরমধ্যে ২ টি গাছ বেচে যায়, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৭০ হাজার টাকা। রোকেয়া বেগম বলেন, আমার বাবা মারা গেছে বহু বছর আগে আর আমার মা বেচে থাকা অবস্থায় ভাই আবুল কাশেমের সম্মিতিতে জমি ভাগাভাগি করে দেয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রায় ৯ শতাংশ জমি আমাকে দেওয়া হয় যে সম্পত্তি আমার নামে রেকর্ড এবং দীর্ঘদিন আমাদের ভোগ দখলে আছে। ওই জমিতে বিভিন্ন ফলের গাছ যেমন আম, কাঠাল ও তাল গাছ আছে যাহা আমাদের দখলে আছে। কিন্তু গত ২২ আগষ্ট তারিখে আমরা জানতে পারি ওই জমির গাছগুলো আমার ভাই আবুল কাশেম বিক্রয় করবে। জানার পর আমার ছেলে বেল্টু স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানায়। স্থানীয়রা আমাদের জানান এক সপ্তাহ পর এটা ওঠা বসা করে মিমাংসা করা হবে বিন্তু তার আগেই গত ২৩ তারিখে আমার ভাই আবুল কাশেম লোকজন নিয়ে ২ টা রেইনট্রি গাছ জোরপূর্বক মেরে নেয়। এ সময় আমি আমার ছেলে এবং মেয়ে বাধা দিতে গেলে ভাই আবুল কশেম, তার ছেলে রুবেল, আমার চাচাতো ভাই ইউসূফ এবং তার ছেলে ইসমাইলসহ ৪/৫ জন আমাদের মারধর করে আহত করে। স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এরপর গত ২৩ আগষ্ট কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ আবুল কাশেমকে গাছ মারতে নিষেধ করেন। পুলিশের নিষেধ উপেক্ষা করে দুইদিন পর আবার গাছ মারা শুরু করে। বিষয়টি উপজেলার তত্তিপুর ফাড়ির আইসি এসআই শামিমকে জানালে তিনি আমাদের আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে আনতে বলেন। আইসির পরামর্শ অনুযায়ী আমরা আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে থানায় জমা দেওয়া হয়। তারপর তারা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা গাছ ২ টি বিক্রয় করেন আবুল কাশেম।

তত্তিপুর ফাঁিড়র আইসি এসআই শামিম বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি রোকেয়া বেগমের ভাই আবুল কাশেমকে গাছ মারাতে নিষেধ করি। জবাবে আবুল কাশেম বলেন আমার বাবার হাতের লাগানো গাছ আমি বিক্রয় করবো তাতে আপনি বাধা দেবেন কেন। তারা আমার নিধেষও শুনিনি। আবুল কাশেম স্থানীয়দের কথারও কোন কর্নপাত করেননি। উপায়ন্ত না পেয়ে আমি রোকেয়া বেগমের ছেলে বেল্টুকে ১৪৪ ধারার পরামর্শ দেওয়া হয়। তারা আদালত থেকে ১৪৪ ধারা আনলে আমি বিষয়টি আবুল কাশেম জানায় এরপরও তা মানেননি। বর্তমানে বিষয়টি আমি মিমাংসা করার চেষ্ঠা করছি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।