কলকাতায় ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র’ আলোচনা অনুষ্ঠিত

কলকাতায় ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র’ আলোচনা অনুষ্ঠিত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র’ শিরোনামে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সহযোগিতায় আজ এক বিশেষ আলোচনা আয়োজন করা হয়েছে কলকাতার প্রেস ক্লাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ মুরাদ হাসান, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া। আরো উপস্থিত ছিলেন ভাষাবিদ ড. পবিত্র সরকার এবং পরিচালক ও অভিনেতা সৃজিত মুখার্জী।

প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশ উপ দূতাবাসের সহযোগিতায় কলকাতার ঐতিহাসিক প্রেসক্লাবে এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। বিশেষ করে কলকাতার সেই ঐতিহাসিক প্রেস ক্লাব যা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সহযোগী। বাংলাদেশের স্থপতি  শেখ মুজিবুর রহমান হাজার ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যে জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন তা ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এবং বিশাল সমাবেশ। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি যে অকুণ্ঠ সমর্থন করেছিলেন তা আন্তরিকভাবে স্মরণ করছি। একই সাথে ভারতের জাতির পিতা  মহাত্মা গান্ধী ও  সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে গভীরভাবে স্মরণ করছি। ইন্দিরা গান্ধীর অবদান বাংলাদেশ চিরকাল মনে রাখবে। স্মরণ করছি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও দুই বাংলা তথা বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে।  এছাড়া সেইসব শিল্পী-সাহিত্যিকদের স্মরণ করছি যারা আমাদের মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন। আমি ৬ ফেব্রুয়ারির ব্রিগেডে বঙ্গবন্ধুর ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক চিরকাল অটুট থাকবে। আমি একই সাথে বলতে চাই বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্ক অটুট ছিল আছে এবং থাকবে। এই সময় ভারতের সহযোগিতায় বাংলাদেশ বিশ লাখ ভ্যাকসিন পেয়েছে এবং এই ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে তিন কোটি ভ্যাকসিন পাবে। আমি কলকাতাবাসীর কাছে আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতি তুলে ধরছি, যা আগামীতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া বলেন, দু’দেশের চলচ্চিত্র এখন যৌথভাবে কাজ করে অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলাদেশের অনেক শিল্পীকে পশ্চিমবাংলাও চিনতে পারছে। এরপরে তিনি মহাভারতের দৌপ্রদীর পাঁচ স্বামীর উদাহরণ তুলে ধরেন।  তিনি বলেন , আমার পড়া মতে অর্জুন যখন দৌপ্রদীকে লক্ষ্যভেদ করে মা কুন্তির সামনে নিয়ে আসেন তখন মা কুন্তী কোন কিছুই না দেখে পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দ্রৌপদীকে ভাগ করে নিতে বলেন। সেই কারণেই দৌপ্রদীর পাঁচ স্বামী। আমরা রাজনৈতিকভাবে ভাগ হয়ে গেলেও আদতে আমারা বাঙালি, তাহলে আমারা কেন পানি ভাগ করে নিতে পারবো না? প্রেস ক্লাবে বসে আপনাদের মাধ্যমে দিদিকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এই বিষয়ে আবেদন করতে চাই। আমরা যদি ভাগাভাগি করে নিতে পারি তাহলে আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ থাকবে না। এটাতে দয়া করে কোন রাজনৈতিক রঙ দেবেন না এটা আমাদের অধিকারের কথা বললাম।

কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের প্রথম সচিব প্রেস ড. মোঃ মোফাকখারুল ইকবাল।

Share this news

Brinda Chowdhury
Author / Reporter

Brinda Chowdhury

Click the author name to read more stories.

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।