হাসপাতালের পথে মৃত অমল শীলের দেহ করোনা সন্দেহে ফেলে গেল সবাই

হাসপাতালের পথে মৃত অমল শীলের দেহ করোনা সন্দেহে ফেলে গেল সবাই

হাসপাতালে নেওয়ার পথে ব্যাটারি চালিত অটো ভ্যানে মৃত্যু হয় অমল শীলের (৬৫) । করোনা সন্দেহে ফেলে গেল সবাই, কেউই এগিয়ে আসেনি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) কালিহাতী পৌরসভার উত্তর চামুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় বৃদ্ধের।

এরপর ওই বৃদ্ধের লাশ রাস্তায় ফেলে চলে যায় বহনকারী ব্যাটারি চালিত অটো ভ্যান চালক সহ সবাই। লাশটি রাস্তায় পড়ে থাকলেও করোনা সন্দেহে কেউই এগিয়ে আসেনি। সকাল ১১ টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত লাশ পড়ে ছিলো রাস্তাতেই। এমনকি লাশটি সৎকার করতেও কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় তার দাহ সম্পন্ন হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১০ দিন যাবত অমল শীল ঠান্ডা-জ্বরে ভুগছিলেন। শুক্রবার সকালে ভ্যান যোগে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।চালক রাস্তার পাশে ফেলে গেলে স্ত্রী ছাড়া কেউ প্রথমে লাশের কাছে আসেনি। পরে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করলে তারা সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ইসলামী ফাউন্ডেশনের একটি টিমও সেখানে যায়।

মৃত অমল শীলের স্ত্রী পবন রানী শীল বলেন, গত ১০ দিন আগে আমার স্বামীর ঠান্ডা-জ্বর শুরু হলে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে আমার স্বামী ৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হলে ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে আসি। কয়েকদিন পর আবার জ্বর ও কাশি হলে আজ শুক্রবার সকালে ভ্যান নিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি রাস্তায় মারা যায়। পরে ভ্যান চালক লাশটি রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। এর পর স্থানীয় লোকজন কেউই এগিয়ে আসেনি।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক বলেন, যখন জানতে পারলাম করোনার ভয়ে গ্রামের কেউ সৎকারে এগিয়ে আসছে না, তখন পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় লাশ সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ওসি হাসান আল মামুন বলেন, অমল শীল করোনায় মারা গেছেন এই ভয়ে আত্মীয় স্বজনরা এবং স্থানীয় লোকজন কেউ সৎকারে এগিয়ে আসছে না, এমন খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এবং ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপজেলা কমিটির সহযোগিতায় লাশ দাহ করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসে মৃত ব্যক্তিদের দাফন সংক্রান্ত ইসলামী ফাউন্ডেশনের কালিহাতী কমিটির লিডার মওলানা মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেন, দীর্ঘ সময় হিন্দু ওই ব্যক্তির লাশ রাস্তায় পড়ে ছিল। পুলিশ ও আমরা সেখানে উপস্থিত হই। তখন কোন স্থানীয় হিন্দু লোকজনসহ কেউ লাশের পাশে যায়নি। পরে আমরা লাশটি কাঁধে করে নিয়ে গিয়ে লাশটি ধোয়ানোর ব্যবস্থা করি। পরবর্তীতে খড়ি সাজানো শেষে যখন আগুন দিবো তখন কয়েকজন হিন্দু গিয়ে বলে আগুন আমরা দেই। পরে তারা শুধু আগুন দিয়েছে বাকি সব কাজ আমরাই করেছি।

কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান বলেন, মৃত ব্যক্তির করোনা উপসর্গ থাকায় করোনা হয়েছিল কি না সেই পরীক্ষা করার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।