আসিফ নওয়াজ জানজুয়ার মৃত্যুতে প্রটোকল ভেঙ্গে শোকবার্তা

আসিফ নওয়াজ জানজুয়ার মৃত্যুতে প্রটোকল ভেঙ্গে শোকবার্তা

১৯৭১ সালে গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিফ নওয়াজ জানজুয়া ১৯৯৩ সালের ৮ জানুয়ারি মৃত্যুতে প্রটোকল ভেঙে শোকবার্তা পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

কেবল তাই নয়, খালেদা জিয়া সবাইকে অবাক করে দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে জেনারেল জানজুয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী পুরুষের পাশাপাশি নারীরা জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। শেষ পর্যন্ত সিনিয়র নেতাদের চাপে এবং কূটনৈতিক কারণে জেনারেল জানজুয়ার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি খালেদা জিয়া।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর  ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জেনারেল অরোরার কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেছিল। ​২০০৫ সালের ৩ মে মৃত্যুবরণ করেন। তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বা তার সরকার জেনারেল অরোরার মৃত্যুতে কোনো আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা প্রদান করেনি।

​মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন বিএনপির এমন নেতারা- খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেছিলেন, তিনি যেন জেনারেল অরোরার মৃত্যুতে অন্তত মৌখিক শোক প্রকাশের সৌজন্যটুকু দেখান। কিন্তু খালেদা জিয়া তাচ্ছিল্যের সঙ্গে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

এই ইতিহাস কোনো গুজব নয়, কোনো ফেসবুক কল্পকাহিনি নয়। এটা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আচরণের দলিল। ১৯৭১ সালকে এড়িয়ে যাওয়া — এটা খালেদা জিয়ার ভুল নয়, তিনি শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন পাকিস্তানের পক্ষে।

​১৯৭১ সালে আসিফ নওয়াজ জানজুয়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মেজর পদে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানের ১১১তম ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের ‘ব্রিগেড মেজর’ হিসেবে ইস্টার্ন কমান্ডের অধীনে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় জানজুয়ার বাসভবনে বিশেষ আতিথেয়তায় বেশ কিছু দিন বসবাস করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। যে কারণে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) তাকে ঘরে তুলতে চাননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চাপে, জেনারেল জিয়াউর রহমান শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে ঘরে তুলতে বাধ্য হয়েছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।