ঢাকা, ১৪ জুলাই: দেশের ওপর মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাব অব্যাহত থাকায় আগামী পাঁচ দিন দেশের সব বিভাগেই বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ বর্তমানে ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত। ফলে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
১৫ ও ১৬ জুলাই দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা বেশি।
১৭ ও ১৮ জুলাই খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ সময় দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমে আসতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, পাঁচ দিনের পরও দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।