আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের প্রথমার্ধ, ঘানা-পানামা ম্যাচ গোলশূন্য সমতায়

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের প্রথমার্ধ, ঘানা-পানামা ম্যাচ গোলশূন্য সমতায়

তীব্র উত্তেজনা, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর গোলরক্ষকের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে মুখরিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এল’-এর ম্যাচে ঘানা ও পানামার মধ্যকার প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়েছে। স্কোরলাইন ০-০ হলেও কানাডার টরন্টোর বৃষ্টিভেজা স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই দুই দল একে অপরকে টেক্কা দিয়ে লড়েছে।

শুরুতেই আতি জিগির অতিমানবীয় সেভ

ম্যাচের বয়স যখন মাত্র দুই মিনিট, তখনই লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল পানামা। ডান প্রান্ত থেকে উড়ে আসা একটি নিখুঁত ক্রসে সামনে থাকা ঘানার ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে দারুণ এক শট নেন পানামার ফরোয়ার্ড সেসিলিও ওয়াটারম্যান। তবে ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আতি জিগি অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি লাইনের ওপর থেকে ফিরিয়ে দেন। প্রথমার্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং নিশ্চিত গোলের সুযোগ ছিল এটিই।

আক্রমণে পানামার আধিপত্য, ঘানার রক্ষণাত্মক কৌশল

শুরুর ধাক্কা সামলে পানামা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। বিশেষ করে বাম প্রান্ত দিয়ে হোসে লুইস রদ্রিগেস বেশ কয়েকবার ঘানার ডিফেন্সে কাঁপুনি ধরিয়ে বিপজ্জনক ক্রস বাড়ান। তবে পানামার ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল অধরাই থেকে যায়।

অন্যদিকে, ঘানা আক্রমণে খুব একটা ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি। কামালদীন সুলেমানা ও আর্নেস্ট নুয়ামাহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় কয়েকটি আক্রমণ শানালেও পানামার জমাট রক্ষণভাগের সামনে তা ভেস্তে যায়।

মাঝমাঠের উত্তেজনা ও ইনজুরি শঙ্কা

দুই দলের শারীরিক ফুটবল ও মাঝমাঠের দখলের লড়াইয়ে প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার খেলা ব্যাহত হয়। ম্যাচের ১৭ মিনিটে পানামার ইয়োয়েল বারসেনাসকে বিপজ্জনক ফাউল করায় রেফারি ঘানার ক্যালেব ইয়েরেঙ্কিকে হলুদ কার্ড দেখান।

ম্যাচের ৪৩ মিনিটে বড়সড় ধাক্কা খায় ঘানা শিবির। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সাথে জোরালো সংঘর্ষে মাঠে লুটিয়ে পড়েন ঘানার অতন্দ্র প্রহরী আতি জিগি। বেশ কিছু সময় মাঠে তাঁর চিকিৎসা চলে। তবে ঘানা সমর্থকদের স্বস্তি দিয়ে তিনি পুনরায় খেলা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় ‘হাইড্রেশন বিরতি’, গ্যালারিতে দুয়োধ্বনি

ম্যাচের ২৫ মিনিটে দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। টরন্টোর বৃষ্টিভেজা আবহাওয়া এবং ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রার মধ্যেও রেফারি নিয়মানুযায়ী ‘হাইড্রেশন বিরতি’ (পানি পানের বিরতি) ঘোষণা করেন। তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যে এমন অপ্রয়োজনীয় বিরতি মেনে নিতে পারেনি গ্যালারিতে থাকা ফুটবলপ্রেমীরা। রেফারি খেলা থামানোর সাথে সাথেই গ্যালারি থেকে সমস্বরে দুয়োধ্বনি (বুয়িং) মেতে ওঠেন দর্শকরা।

প্রথমার্ধে কোনো দলই জালের দেখা না পেলেও, ম্যাচের গতি ও তীব্রতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দ্বিতীয় অর্ধে গোল পেতে মরিয়া হয়ে লড়বে দুই দলই।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।