মধুখালী প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের সরকারী চাকুরীজীবি ময়েন বিশ্বাস তার বাহিনী নিয়ে বিধবা সূর্য বেগমের বসত বাড়ি দখলের আক্রমণ করেছে বলে অভিযোগ শোনা যায়।
জানা যায় স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সূর্য বেগমের স্বামী আবুল বিশ্বাস মারা যায়। তখন তিনি ছোট ছেলে কবিরকে নিয়ে সরকারী রেলের জায়গায় বসবাস করতেন। বিধবা সূর্য বেগম ময়েনকে নিজের ছেলের মত জানত। এমন সরলতার সুযোগ নিয়ে ময়েন ফাঁদ পাতে এবং বলে চাচী তোমার তো কোন জায়গা জমি নাই তুমি সরকারী রেলের জায়গায় থাকো। তোমাকে কখন কে কোন সময় বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দেয়। তোমাকে রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জমি লীজ নিতে হবে। তাহলে তুমি পিতা হারা ছেলে নিয়ে বসবাস করতে পারবে।
এই কথার পর সূর্য বেগম ১৫ শতাংশ জমি লীজ নেওয়া বাবদ ময়েনকে ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা দেয়। এই সুযোগে ময়েন রেলের জায়গা তার নিজ নামে লীজ নেয় এবং তথ্য গোপন করে রাখে। বিধবা সূর্য বেগম লীজের কাগজ চাইতে গেলে অন্য বুঝ দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এইভাবে দীর্ঘ ৪১ বছর বসবাস করার পর গত বৃহস্পতিবার ময়েন বলে তোমাদের বাড়ির জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। তখন বিধবা সূর্য বেগম তার ছেলের নিকট ঘটনা খুলে বললে তার ছোট ছেলে কবির আনুমানিক ১৫ শতাংশ জমি বসতবাড়ি সহ বাশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখে। এই অবস্থায় বিধবা সূর্য বেগমকে ময়েন পুলিশের ভয় দেখায় এবং বাড়ি উচ্ছেদের জন্য তার বাহিনী দিয়ে হুমকি প্রদর্শন করে। পরে বিধবা সূর্য বেগম নিরুপয় হয়ে কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুর রহমান বিশ্বাস (বাবু) এর নিকট গিয়ে বিষয়টি খুলে বললে ময়েনকে বাড়িসহ জমি দখলের নিষেধ করে এবং সূর্য বেগমকে রেলের অফিসে যেয়ে কাগজ করে নেয়ার জন্য বলেন। তখন তার ছেলে রবিউলকে নিয়ে রাজবাড়ী রেলের অফিসে গেলে জানতে পারেন ময়েনের নামে লীজ নেওয়া। তখন অফিস কর্তৃপক্ষ বলেন আর আপনাদের নামে হবেনা।
তবে ময়েন দিলে আপনারা পাবেন। তার পরেও ময়েনকে ফোন করে অফিস কর্তৃপক্ষ বলেন বিধবা সূর্যকে থাকেত দিবেন। তাই বিধবা সূর্য বেগমের দাবি তিনি ছেলে কবির এবং বেটার বউ নাতি নাতনিকে নিয়ে যাতে রেলের জায়গায় শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করতে পারেন তাহার জন্য গ্রামবাসী, রেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। যে অবস্থায় ময়েনের হাত থেকে মুক্তি পায় এবং নিজের নামে লীজ হয় তাহার ব্যবস্থা করতে মর্জি হয়।



