× Banner
সর্বশেষ
২০ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তফসিল ঘোষণা কমিশনের শিকলমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ঢাকায় মহাসমাবেশসহ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট সচিবালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন সূর্যের পৃষ্ঠে লুকিয়ে ছিল যে রহস্য বোরকাপরা নারীর ইশারায় থামে বাস, ২০ মিনিটে ৫৭ লাখ টাকা লুট লালবাগ কেল্লা পরিদর্শন করলেন মার্কিন নৌ কমান্ডার বিতর্কিত সেই পরিকল্পনার জন্য ক্ষমা চাইলেন ফিফা সভাপতি দেশের সব নাগরিকের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জেরুজালেম ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হতে জর্ডানে মুসলিম দেশগুলোর বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার

শতবর্ষের চলাচলের পথ বন্ধ, অবরুদ্ধ সংখ্যালঘু তিন পরিবার

ACP
হালনাগাদ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
সংখ্যালঘু তিন পরিবারের শতবর্ষের চলাচলের পথে বেড়া, দুর্ভোগ চরমে
সংখ্যালঘু তিন পরিবারের শতবর্ষের চলাচলের পথে বেড়া, দুর্ভোগ চরমে

খুলনার পাইকগাছায় প্রায় শত বছর ধরে ব্যবহৃত চলাচলের একটি পথ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পথটি নিজেদের জমির অংশ দাবি করে বেড়া দেওয়ায় তিনটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটিও বাড়িতে নিতে পারছেন না তারা।

উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের ঘোষাল গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মিস্ত্রি ও তার পূর্বপুরুষরা। এছাড়া এ এলাকার সাধারণ লোকজনও এ পথ দিয়ে শত বছর আগে থেকে চলাচল করে আসছেন বলে এলাকাবাসী জানান।

পথের পূর্ব মাথার কিছু অংশ চেঁচুয়া গ্রামের নুরুল হক মিস্ত্রিদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের কাছ থেকে কয়েক মাস আগে চেঁচুয়া গ্রামের আছের দপ্তরির ছেলে মোক্তার দপ্তরি ৮ শতক জমি খরিদ করেন। গত ২৩ জুলাই পথটি তাদের খরিদ করা জমি দাবি করে ঘেরা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে বিশ্বজিৎ মিস্ত্রি, বিষ্ণপদ মিস্ত্রি ও অসীমা মিস্ত্রিদের যাতায়াতের পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে তারা এখন পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার কয়েক দিন পরে পাশের জমির মালিক রেজাউল নায়েব তার পুকুরের ধার দিয়ে এক হাত জায়গা ছেড়ে দেওয়ায় সেখান দিয়ে চলাচল করছেন।

ভুক্তভোগী বিষ্ণুপদ বলেন, এই পথ দিয়েই আমাদের পরিবারের মানুষ প্রায় ১০০ বছর ধরে চলাচল করে আসছেন। এখন ঘেরা-বেড়া দেওয়ায় আমরা বাড়ি থেকে ভ্যান নিয়ে বের হতে পারছি না, আবার ভ্যান নিয়েও বাড়িতে ঢুকতে পারছি না। ভ্যান চালিয়েই আমাদের সংসার চলে। পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের আয়-রোজগারও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বিশ্বজিত মিস্ত্রি বলেন, চলাচলের পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় মালামাল বাড়িতে আনা-নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো পরিবারের সদস্য অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত বাড়ি থেকে বের করে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এমনকি রাস্তার কারণে তার বিয়ে ভেঙে গেছে।

সমস্যার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশ সুপারের দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তারা কোথাও উপস্থিত হচ্ছেন না বলে জানালেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তবে আবেদন করার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি তারা।

এবিষয়ে মোক্তার দপ্তরির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার খরিদ করা জমিতে পথ থাকবে লোকজন চলাচল করবে তা হবে না। পথ নিতে গেলে পথের সমান জমি দিতে হবে।

ইউপি সদস্য আবু হাসান বলেন, পথ ঘেরা দেওয়ার বিষয়টি জানার পরে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। মোক্তার দপ্তরিকে পথ উন্মুক্ত করার কথা বললেও এখনও পথটি উন্মুক্ত করেনি। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ হলে বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদে পাঠায়। সেখানেও তিনি হাজির হননি। তিনি কোনো আইন মানছেন না। পথ বন্ধ করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, পথটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির অংশ কি না, নাকি দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের পথ, তা প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হোক। একই সঙ্গে তাদের স্বাভাবিক চলাচলের পথটি খুলে দিয়ে দ্রুত দুর্ভোগের অবসান করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..