রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার নগর পাঁচুপুর আলিম মাদ্রসার প্রায় ২৫-৩০ টি ইউক্যালিপটাস (ইউকালেক্টর) গাছ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার সুপার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। কেটে ফেলা গাছ গুলোর মধ্যে কিছু গাছ তারা নিয়ে যায় ও অবশিষ্ট কিছু গাছ নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামের লোকজনের তপের মুখে পরে তা ফেলে রেখে যায়। ট্যান্ডার ও রেজুলেশান এবং কাউকে থেকে কোন অনুমতি না নিয়েই গাছ গুলো কেটে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনর পড় থেকে ওই গ্রামে থমথম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ঘটনার সুষ্ট তদন্ত করে মাদ্রাসার সুপার আমিনুল ইসলাম ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল মালেক এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রবিবার রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গ্রামবাসির পক্ষ থেকে নগর পাঁচুপুর আলিম মাদ্রসার ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ও একডালা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আব্দুল হামিদ।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার নগর পাঁচুপুর আলিম মাদ্রসার ২৫ বছর বয়সের প্রায় ২৫-৩০টি ইউক্যালিপটাস (ইউকালেক্টর) গাছ গত শুক্রবার মাদ্রাসার সুপার আমিনুল ইসলাম ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল মালেক জোগসাজসে জোর পূর্বক গাছ গুলো গ্রামবাসির সম্মতি না নিয়ে ও মাদ্রাসাটির ম্যানেজিং কমিটির কোন রেজুলেশান ছাড়াই গাছ গুলো আত্মসাৎ এর উদ্ধেশ্যে কর্তন করে। কিছু গাছ নিয়ে যায় ও অবশিষ্ট কিছু গাছ নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামের জনগনের বাধার মুখে পড়ে ও সেখানে গাছ গুলো রেখে চলে যায়। তাহারা আরও অনুমান ১০০-১২০টি গাছ কর্তন করার সড়যন্ত্র করিতেছে। এতে করে মাদ্রাসার ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতি গাছ কর্তন ও অন্য গাছ কাটার পরিকল্পনা করায় এলাকার জনগন ব্যাপক ক্ষুব্ধ। এঘটনার সুষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রবিবার নগর পাঁচুপুর গ্রামবাসির পক্ষে থেকে মাদ্রসার ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ও একডালা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আব্দুল হামিদ রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
নগর পাঁচুপুর আলিম মাদ্রসার ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ও একডালা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আব্দুল হামিদ মুঠোফেনে আরো বলেন, এই ২৫-৩০ টি ইউক্যালিপটাস (ইউকালেক্টর) গাছ মাদ্রাসার সুপার আমিনুল ইসলাম ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল মালেক জোগসাজসে গাছ গুলো কাটে। যাহার মূল্য প্রায় দেড়-দুই লক্ষ টাকা। গাছের টাকা গুলো তারা পকেটে ভরতে চায় এই কোন রেজুলেশান ও কাউকে না জানিয়ে গাছ গুলো কেটেছে। আমি এর সুষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযোগের পেক্ষিতে নগর পাঁচুপুর আলিম মাদ্রাসার সুপার আমিনুল ইসলামের মন্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
এ ব্যাপারে নগর পাঁচুপুর আলিম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি আব্দুল মালেক মুঠোফোনে বলেন, গাছগুলো মাদ্রাসার সিমানার গাছ না। গাছগুলো ১৯৯৬ সালে মাদ্রাসার লোকজন লাগায় সে গাছ গুলো ব্যক্তি মালিকানায় চলে গেছে। গাছগুলোর মোট ৩ জন মালিক। আমারা মোট গাছ কাটছি ১৩টা। এই ১৩টা গাছের ভিতরে এক মালিক ৫টা গাছ দ্বিতীয় মালিক ৩টা গাছ লিখিত ভাবে মাদ্রাসায় দিয়েদিছে। আরেক মালিককে নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। তৃতীয় মালিক আমাদের ৫টা গাছ দিয়েছিলো যখন আমরা গাছ কেটে ফেলি তখন আমাদের বলে মাদ্রাসার মাঠের মধ্যে আমরা ২৬ শতাংশ জায়গা পাবো এই জায়গা না দিলে আমরা গাছ দিবো না। তখন আমি বলি আপনারা যদি জায়গা পাল তাহলে সবাই বসে সমন্নয় করে নেন। মাঠে মধ্যে থেকে সরকারি জায়গা দেওয়া আমার কোন এক্তিয়ার নেই অথেব আপনাদের গাছ আমরা নিলাম না আপনাদের গাছ আপনাদের দিয়ে দিলাম ওই জন্য গাছ গুলো পরে আছে।
তিনি আরো বলেন, আমার সরকারি কোন গাছ কর্তন করিনি এই জন্য কারো পারমেশান নেওয়ার প্রায়োজন মনে করিনি। গাছ গুলো সম্পর্ন মাদ্রাসার টাকা ব্যয় করে লাগানো হয়েছিল।
এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


