পাইকগাছায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় তীব্র লোডশেডিংয়ে লক্ষাধিক গ্রাহক ও প্রায় চার লাখ মানুষ। প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন সময় মিলিয়ে মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বিদ্যুৎনির্ভর মিল-কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের উপক্রম হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলায় আবাসিক, বাণিজ্যিক, সেচ ও শিল্পসহ বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় এক লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে সচল গ্রাহক প্রায় ৮৫ হাজার। কিন্তু বিদ্যূৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গত কয়েকদিন ধরে অসহনীয় লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুতের অভাবে বিশেষ করে মাছ ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বরফকলগুলোতে পর্যাপ্ত বরফ উৎপাদন না হওয়ায় মাছ সংরক্ষণ ও পরিবহনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে মাছ নষ্ট হয়ে অনেক ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পোল্ট্রি মুরগি খামারীরা এবং ধান, চাল ও তেল মাড়াইসহ বিভিন্ন মিল-কলকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার গোপালপুর এলাকার নাহিদ হাসান রাইস মিলের মালিক আমিনুর রহমান বলেন, “বিদ্যুতের সমস্যার কারণে মিল ঠিকমতো চালাতে পারছি না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং চালের দামও বেড়ে যাচ্ছে।
মিল শ্রমিক শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় মিল চলে না। মিল বন্ধ থাকলে মালিকও আমাদের ঠিকমতো বেতন দিতে পারেন না। এতে আমরা শ্রমিকরা খুব অসহায় অবস্থায় আছি।খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাইকগাছা জোনের ডিজিএম অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, “পাইকগাছা উপজেলায় প্রতিদিন প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু গত দুই দিন ধরে আমরা মাত্র ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়েছি।
এ কারণে গ্রাহকদের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।এদিকে টানা লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন পাইকগাছার সাধারণ মানুষ। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকারের উচ্চ মহল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।




