বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ জোরদারে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক

বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ জোরদারে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক

ঢাকা: বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি নৌযোগাযোগ স্থাপন এবং সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সো মো (U Kyaw Soe Moe)।

আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কার্যালয়ে এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, এলএনজি আমদানি, পারস্পরিক বিনিয়োগ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনার প্রধান দিকসমূহ

১. বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সম্ভাবনাময় খাত

ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার ওপর জোর দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকে বিশেষ করে যেসব পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে, তা হলো:

কৃষি ও মৎস্যপণ্য

চাল ও হিমায়িত খাদ্য

ঔষধ শিল্প

এলএনজি (LNG) আমদানি

২. সরাসরি নৌযোগাযোগ ও খরচ হ্রাস

দুই দেশের মধ্যে সরাসরি নৌ যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হন। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সরাসরি নৌপথ চালু হলে পণ্য পরিবহন ব্যয় ও সময় অনেকাংশে কমে আসবে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

৩. সীমান্ত বাণিজ্য (Border Trade) পুনরায় চালু

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য দ্রুত চালুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত বা অস্থায়ী পরিসরে এই বাণিজ্য চালু করার প্রস্তাব দেন তিনি, যা উভয় দেশের সীমান্ত সংলগ্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে আসবে বলে মনে করা হয়।

৪. রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গ

বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করা হয়।

মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য: প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তালিকার যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর জোর দাবি: বাংলাদেশ দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এই প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতির আহ্বান জানায়।

আগামী দিনের পদক্ষেপ

প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো (যেমন: পরিবহন ও সীমান্ত যোগাযোগ) আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি, উভয় দেশের মধ্যে নিয়মিত যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন এবং বাংলাদেশে পরবর্তী যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠানের প্রস্তাব নিয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হন।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন: মোঃ আতাউর রহমান খান, সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আয়েশা আক্তার, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মিয়াট লুইন (Myat Lwin), কাউন্সিলর, মিয়ানমার দূতাবাস।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।