দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য এবং উপদ্রুত এলাকায়  আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম

দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য এবং উপদ্রুত এলাকায়  আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য

দেশব্যাপী আকস্মিক বন্যাভূমিধসপাহাড়ধস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বশেষ তথ্য এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের চলমান কার্যক্রমের ওপর জেলা তথ্য অফিসসমূহের প্রেরিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপদ্রুত এলাকায় আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রমের তথ্য

চট্টগ্রাম জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ও ২৪৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় সকলে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে গিয়েছে। নিহত ১৩ জনের পরিবারের মধ্যে ২৫ হাজার টাকা করে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

জেলার ত্রাণ হিসেবে বরাদ্দকৃত ত্রাণের পরিমাণ ১৫০০ মেট্রিক টন চাল, নগদ অর্থ ৯৫ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের নগদ বরাদ্দ চার লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের নগদ বরাদ্দ ১০ লাখ টাকা। এছাড়া জেলায় ১০০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি হিসেবে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ  করা হয়েছে। এছাড়া, বরাদ্দের বিপরীতে বিতরণকৃত চালের পরিমাণ ১১৯৫  মেট্রিকটননগদ টাকা ৮৩.৭৫ লাখ শিশু খাদ্যের জন্য চার লাখ টাকা, শুকনো খাবার ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেটগোখাদ্যের জন্য নগদ ১০ লাখ টাকা বর্তমানে মজুদ ত্রাণের চাল ৩০৫ মেট্রিকটননগদ অর্থ ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও  ঢেউটিন ১০৪৫ বান্ডিলএছাড়াগৃহনির্মাণ মঞ্জুরির ৩০ লাখ টাকা বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।   

 হবিগঞ্জ সদরে সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যার্তদের জন্য ২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ৯টি উপজেলায় ৮৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন্যার্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত নগদ ২ লাখ টাকা, ৩৫ মেট্রিক টন চাল এবং ১৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগকালীন সময়ের জন্য নগদ ৮ লাখ টাকা, ১৭০ মেট্রিক টন চাল, ১১০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি ৬ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। জেলা ও উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১৫০টি। ত্রাণ সহায়তা হিসেবে বরাদ্দকৃত চালের পরিমাণ ৪০০ মে.টন, নগদ অর্থ ৪৫ লাখ টাকা, ঢেউটিন ৫৪৬ বান্ডিল, গৃহমঞ্জুরি বাবদ বরাদ্দ ১৫ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা, গো-খাদ্যের পাঁচ লাখ টাকা। মজুদ থাকা ত্রাণের পরিমাণ চাল ১০০ মেট্রিকটন, নগদ অর্থ ১৪ লাখ ৫০ হাজর টাকা, ঢেউটিন ৫৪৬ বান্ডিল, গৃহমঞ্জুরি বরাদ্দ ১৫ লাখ টাকা, বিতরণকৃত ত্রাণের পরিমাণ চাল ৩০০ মে মেট্রিকটন ও নগদ অর্থ -৩০ লাখ, ৫০ হাজার টাকা।

কক্সবাজার জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৯.৮০ লক্ষ টাকা ও চাল ৪৫০ মে. টন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী সরকারিভাবে বন্যার্তদেরকে সরবরাহ করা হচ্ছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মনিটরিং করার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলায় কন্ট্রোলরুম চালু রয়েছে। মজুদকৃত ত্রাণের পরিমাণ নগদ ১০.২০ লাখ টাকা, চাল ৩০০ মে. টন, ঢেউটিন-১০৭৭ বান্ডিল, গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি বাবদ ৩০ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য চার লাখ টাকা ও গো-খাদ্যের ১০ লাখ টাকা, কম্বল ৫,৮০০টি।

মৌলভীবাজার জেলা তথ্য অফিসে প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ১৫০ জন মানুষ এবং ৮০টি গবাদি পশু আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ত্রাণকার্যের অংশ হিসেবে নগদ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১৪০ মে.টন চাল, ১৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যা কবলিত অসহায় মানুষ এবং ৫টি অন্ধ পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর মধ্যে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। সেই মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন পোশাক প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে মজুদ নগদ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, চাল ৬০ মেট্রিকটনঢেউটিন ৫০০ বান্ডিলগৃহ নির্মাণ মঞ্জুরি ১৫ লাখ টাকা

রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। বিতরণকৃত ত্রাণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। চাল ২৯৫ মেট্রিকটননগদ ২০ লাখ টাকামজুদকৃত ত্রাণের পরিমাণ চাল ২০৫ মেট্রিকটন এবং ২৫ লাখ টাকা।  

বান্দরবান জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আশ্রয়কেন্দ্র হতে লোকজন তাদের বাসাবাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। ত্রাণ কার্যক্রমে বরাদ্দ নগদ ২০ লাখ টাকাচাল ৪০০ মেট্রিকটন এর মধ্যে বিতরণ ২৪৪ মেট্রিকটনশুকনো খাবার ৮৫৬০ প্যাকেট ও ঢেউটিন ৫০০ বান্ডিল। জেলায় মোট মজুদ গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি ১৫ লাখ টাকাশিশু খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা ও গোখাদ্যের জন্য পাঁচ লাখ টাকা।  

লামায় তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্যোগের সময় তিন উপজেলায় মোট ১২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। ১৫ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২,৮৫০ জনকে আশ্রয় প্রদান হয়েছে। ১৮ জুলাই পর্যন্ত বিতরণকৃত চাল ৮৮.৫০ মেট্রিকটন, নগদ টাকা ৯.৫০ লাখ, শুকনো খাবার ৬৪৫৩ প্যাকেট।

রামগড় তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এ পর্যন্ত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৭০টি পরিবারের মধ্যে (প্রতিটি পরিবারকে ২০ কেজি হারেচাল বিতরণ করে। শুকনো খাবার বিতরণ ১২৯ প্যাকেটঢেউটিন পাঁ বান্ডিল এবং নগদ ১ লাখ ৪২ হাজার ৫৫ টাকা বিতরণ করে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।