× Banner
সর্বশেষ
২৪ জুলাই শুক্রবার পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬ বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী FICCI FDI Conference 2026-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে FICCI FDI Conference 2026, উন্মোচিত হলো এফডিআই রিপোর্ট মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দপ্তরিদের শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও

ঠাকুরগাঁওয়ে দাপট কমেনি নিষিদ্ধ যানবাহনের

admin
হালনাগাদ: রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১৬

আব্দুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ॥ ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কে দাপট কমেনি নিষিদ্ধ সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, টেম্পো ও মাহিন্দ্রসহ সব ধরনের থ্রি-হুইলারের। পুলিশের কোনো বাধা না থাকায় বীরদর্পে ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচ উপজেলায় দেদারছে চলছে অবৈধ ঘোষিত এসব যানবাহন।

শনিবার (০২ জুলাই) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে নিষিদ্ধ এসব যানবাহনের ফ্রি স্টাইলে দাবড়ে বেড়ানোর চিত্রের দেখা মিললো। শুধু তাই নয়, এ সময়টাতে মহাসড়কের কোনো পয়েন্টেই ন্যুনতম পুলিশি তৎপরতা চোখে পড়েনি।

ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কে থ্রি হুইলার চালান সামশুল হক। বাড়ি সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে। বয়স বড়জোর ২৪। ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কের বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রী উঠা-নামার সময় আলাপ হয় সামশুলের সঙ্গে। তিন চাকার সব ধরনের যানবাহন নিষিদ্ধ, এরপরেও চালাচ্ছেন কীভাবে, প্রশ্ন করতেই হাসি দিয়ে বললেন, ‘সবাই তো চালায়। তাই আমিও চালাচ্ছি। তবে কেউ না চালালে আমিও চালাবো না।

কথা শেষ না হতেই থ্রি হুইলার নিয়ে চলে গেলেন সামশুল হক। এ সময় দৌড়ে সেখানে আসা ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির দু’শিক্ষার্থী রুবেল হোসেন ও ও মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ছোটখাটো গাড়িতে দুর্ঘটনা বেশি হয়। সরকার মহাসড়কে এসব যানবাহন চলা নিষিদ্ধ করছে। কিন্তু সাধারণ পাবলিকের এটা ছাড়া তো চলে না।’

ওই দুই শিক্ষার্থী জানান, মহাসড়কে গত দু‘দিনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, থ্রি হুইলার ও ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার চলাচল কিছুটা কমেছে। তবে মাহিন্দ্র আর টেম্পো চলাচল করছে বেশি।

মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড থেকে কিছুটা পথ এগিয়ে স্থানীয় এনামুল পেট্রোল পাম্পের সামনে কথা হয় টেম্পো চালক বেলাল হোসেনের সঙ্গে। সদর উপজেলার বাসষ্ট্যান্ড থেকে ভুল্লী এলাকায় যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে বেলালের উত্তর, ‘যান নিষিদ্ধ করেছে, কিন্তু পেট তো এটা মানে না।’ পুলিশ বাঁধা দেয়নি? এ প্রশ্নের উত্তরে ক্ষোভ নিয়ে বললেন, কালকে  (সোমবার) পুলিশ অনেক জ্বালাতন করছিল। আজকে রোডে-ঘাটে পুলিশ নাই।’

অপেক্ষাকৃত ধীর গতিতে টেম্পো, ব্যাটারিচালিত ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা মহাসড়ক দাবড়ে যেতে দেখা গেলেও ঠিক উল্টো অযান্ত্রিক মাহিন্দ্রর। বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলতে দেখা গেলো এ যানবাহনের চালকদের। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়েও কোনো কোনো মাহিন্দ্র চালক বাস কিংবা ট্রাকের সঙ্গে গতির লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন।

শহরের চৌরাস্তা মোড়ে কথা হলো মাহিন্দ্র চালক নজরুল ইসলাম (৩০) এর সঙ্গে। মহাসড়কে সব ধরনের থ্রি-হুইলার নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানেন? জিজ্ঞাসা করতেই চটপটে নজরুলের জবাব, ‘সরকার নিষিদ্ধ করিলেই কী হবে? ওমরা কী হামাক খাওয়া আনে দিবে। তিন দিন ধরে গাড়িখান চালাবা পারোনি। ঘরতও চাউল শেষ। হুট করে নিষিদ্ধ করিলে হুবে নাই। সরকার আগত হামার একটা ব্যবস্থা করুক। এরপর হামরা আর গাড়ি চালামনি’ বলেন নজরুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাদ আহমেদ জানান, নিষিদ্ধ এসব যানবাহন ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশি অভিযানে মহাসড়কে এসব যানবাহনের সংখ্যা ২৫ ভাগে নেমে এসেছে। দু’একদিনের মধ্যে এ সংখ্যাটা শূন্যতে নেমে আনা হবে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..