× Banner
সর্বশেষ
ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট বইটির মোড়ক উন্মোচন করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, অধিকাংশ জেলায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরছে প্রস্তাবিত কর্পোরেট গভর্ন্যান্স রুলস ২০২৬ নিয়ে আইসিএসবির সিপিডি প্রোগ্রাম মাগুরায় ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান পানি সম্পদমন্ত্রীর মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ঝিনাইদহে প্রথমবার পালিত হলো বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন – তথ্যমন্ত্রী Inner Wheel Club of Dhaka Cosmopolitan 2026–2027 Handover Ceremony & Collar Exchange Program ব্যবসা সম্প্রসারণেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব, ব্যবসায়ীদের প্রতি পরিবেশমন্ত্রীর আহ্বান

জীবন দিয়ে ঘুষের প্রতিবাদ তদন্ত করবে পল্লী বিদ্যুৎ ও পুলিশ

admin
হালনাগাদ: রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

সৈকত দত্ত, শরীয়তপুর থেকে ॥ শরীয়তপুরে ১৩০ জনের ১৭ লক্ষ টাকা আত্মসাতের পর খুন করে পালালেন স্বামী-স্ত্রী। ইউপি মেম্বার ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারী দম্পত্তি সহ ২৩ জনকে আসামী করে থানায় মামলা। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পালিয়ে বেড়াচ্ছে শতাধিক মানুষ। নিহতের পরিবারের হামলায় আসামীদের ঘর-বাড়ি লুটের কোন সত্যতা মিলেনি এলাকায় গিয়ে।

সরেজমিন  ঘুরে নিহতের পারিবার ও স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, বিগত প্রায় ১ বছর পূর্বে থেকে সদর উপজেলার চিকন্দী এলাকার দক্ষিন কেবল নগর বক্তার কান্দিতে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে ঘুষ লেনদেন চলছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারী নিলা বেগম তার স্বামী হারুন বক্তার ও স্থানীয় ইউপি সদস্য কাশেম বক্তারের মাধ্যমে এ ঘুষের টাকা নিয়েছেন। প্রতি বৈদ্যতিক মিটারের জন্য ১৩ হাজার টাকা করে ১৩০ পরিবারের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছে প্রত্যারকগণ। মিটার পেতে ৬শত টাকা লাগে জেনে প্রতিবাদ করায় মিটার গ্রাহক কৃষক আলী হোসেন বক্তার (৬৫) কে পিটিয়ে নিহত করা হয়। তখন মিটার গ্রাহক মনির বক্তার, নিলয় বক্তার, মতিন বক্তার, জয়নাল বক্তার, সোহেল বক্তার, সুজন বক্তার সহ প্রায় ১০/১৫ জনকে আহত করা হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় এ ঘটনা ঘটে সদর উপজেলার দক্ষিন কেবল নগর এলাকায়।

নিহতের মেয়ে হত্যা মামলার বাদী রীণা জানায়, আমরা ৩ বোন। আমাদের কোন ভাই নাই। এমন কোন সম্পত্তিও নাই যে আমার মা-বোন খেয়ে বাঁচবে। আমার বাবা কৃষি কাজ করতো। প্রত্যারকদের চাঁপে আমার বাবা গাভি বিক্রি করে মিটারের জন্য খুঁনী নিলা বেগম, হারুন বক্তার ও মেম্বার কাশেম বক্তারের কাছে ১৩ হাজার টাকা দেয়। ১ বছর পার হলে বিদ্যুৎ না দেয়ায় খোঁজ খবর নিয়ে আমার বাবায় জানতে পারে মিটারের জন্য ৬শত টাকা লাগে। এ কথা জানতে চাওয়ায় আমার বাবারে মেম্বার কাশেম বক্তারের হুকুমে মেরে ফেলেছে। আমার ছোট বোন রুনা অষ্টম শ্রেরনীতে পড়ে ওর পড়া-লেখা কিভাবে চলবে? আমার মা-বোন কি খেয়ে বেঁচে থাকবে? মামলা করতে গিয়েও আমরা হয়রাণীর শিকাড় হয়েছি। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।

নিহতের নাতি মোঃ শামিম বলেন, নিহত আলী হোসেন বক্তার আমার চাচাতো দাদা হয়। আমার দাদাকে কাশেম মেম্বারের হুকুমে বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশ্যে মেরে ফেলছে। আমরা খুনীদের বাড়ির একটা পাতাও ধরিনি। বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। সর্বশেষ থানা থেকে ওসি দতন্ত পরিচয়ে আমাদের হুমকি দেয় আমরা নাকি আসামীদের বাড়ি লুট করছি।

নিহতের ভাতিজা আঃ গনি বক্তার বলেন, আশপাশের এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ আছে কিন্তু আমাদের এলাকায় নাই। তখন মেম্বার কাশেম বক্তার বলে হারুন বক্তারের স্ত্রী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে চাকরি করে। তার মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ আনতে পারি। আমাদের প্রত্যেককে ১৩ হাজার করে টাকা করে দিতে হবে। তার কথায় অনেকে টাকা দিয়ে দিল। আমাদের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় গাল মন্দও সহ্য করতে হয়েছে। সর্বশেষ আলী হোসেন জানতে পেরেছে বিদ্যুতের জন্য কোন টাকা লাগে নাই। মিটারের জন্য মাত্র ৬শত টাকা লাগছে। তাই আলী হোসেনকে মেরে ফেলছে।

শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সোহরাব আলী বিশ্বাস বলেন, অভিযুক্ত নিলা বেগম মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্টাফ। লোক মারা যওয়ার পরে অভিযোগ উঠেছে গ্রাহকরা টাকা দিয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা পলাতাক রয়েছে। আমি ডিজিএম আলতাফ গওহর চৌধুরীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছি। তদন্ত চলছে। আমরা অপেক্ষা করবো পুলিশী দতন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত। তখন প্রকৃত ঘটনা উঠে আসবে। আমাদের মধ্যে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

পালং মডেল থানা অভিসার ইনচার্জ তদন্ত এমারৎ বলেন, মামলা করতে বাদী পক্ষকে সহায়তা করেছি। মামলার তদন্তাধীন আছে। এ পর্যায়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..