× Banner
সর্বশেষ
শিবচরে এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী, ছাত্রদল নেতার প্রতিবাদ সরাসরি জাহাজ চলাচল চালুর বিষয়ে মালদ্বীপের সঙ্গে আলোচনা স্বামীকে বাঁচাতে পানিতে নববধূর ঝাঁপ, দুজনেরই মৃত্যু দক্ষ জনশক্তি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশই দেশের সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি – শ্রম মন্ত্রী নড়াইলের লোহাগড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কর্তন পাইকগাছায় বোয়ালিয়া ব্রিজ সড়ক চরম নাজেহাল ; খানাখন্দে ঝুঁকি নিয়ে চলছে হাজারো মানুষ মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান মাদারীপুরে ডাল গবেষণা কেন্দ্রে প্রকল্পের কাজ না করে পুরো বিল আত্মসাৎ, ঘটনাস্থলে এমপি বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে চান ইমদাদুল হক ইমদাদ  শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস উৎযাপন

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবীতে হিন্দু মহাজোটের মানববন্ধন

Kishori
হালনাগাদ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি’র ভগবান শ্রীরামচন্দ্রকে নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করার দাবীতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

আজ শনিবার ১৮ জুলাই, সকাল ১০:৩০ বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট দাবী করে এমন বক্তব্যের জন্য নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে অচিরেই নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। না হলে বাংলাদেশের সমস্ত সমমনা হিন্দু সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট ঢাকাস্থ নেপাল হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচি দিবে।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এর অত্যন্ত ব্যথিত ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় সকলে সমবেত হয়েছে।

তারা বলেন, বিশ্বের সকল সনাতনী সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও অনুভূতির সাথে জড়িত ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের নাম। খ্রিষ্টপূর্ব হাজার হাজার বছর আগে ত্রেতাযুগে শ্রীরাম চন্দ্র ধরাধামে অযোধ্যার রাজা দশরতের জ্যৈষ্ঠ পুত্র রুপে অবর্তীন হয়েছিলেন। শ্রীরাম চন্দ্রের জন্মস্থান সরায়ু নদীর তীরে ভারতের “অযোধ্যায়” অবস্থিত। কোটি কোটি বছর ধরে মানুষের বিশ্বাসের সাথে শ্রীরাম চন্দ্রের নাম ও জন্মস্থান জড়িত।

অথচ এই স্বত্বসিদ্ধ বিষয়টাকে বির্তকিত করার হীন উদ্দেশ্যে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সম্প্রতি বলেছেন – “হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম অবতার রাম নেপালের রাজপুত্র ছিলেন এবং অযোধ্যর অবস্থান নেপালেই ছিল”। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট বাংলাদেশী হিন্দু জনগনের পক্ষ থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃনা প্রকাশ করেছে তারা।

শ্রীরাম চন্দ্রের জন্মস্থান ভারতে অযোধ্যায় এবং পুরাতাত্বিক নির্দশণ ও প্রমানাধি অনুসারে ঐতিহাসিকভাবে সত্য এবং এটি পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ বিশ্বাস করে। অযোধ্যার রাজা দশরথ ও তাঁর প্রধান স্ত্রী কৌশল্যার জ্যেষ্ঠপুত্র ছিলেন শ্রীরাম। বিশ্বের তাবত হিন্দুদের কাছে শ্রীরাম চন্দ্র “মর্যাদা পুরুষোত্তম” (অর্থাৎ, “শ্রেষ্ঠ পুরুষ” বা “আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিপতি” বা “গুণাধীশ”) হিসাবে পরিচিত।

তিনি শুধু অযোধ্যার শাসক নয়, বরং পৃথিবীর সম্রাটে পরিণত হন। এক সময় পৃথিবীর সর্বত্র জুড়ে শ্রীরাম চন্দ্রের নাম উচ্চারিত হতো। প্রাচীন রোমের নাম এসেছে ভগবান রামচন্দ্রের নামানুসারে। জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট মনে করে – নেপালের প্রধানমন্ত্রী’র এহেন উক্তি শুধু শ্রীরাম চন্দ্রের জন্মভূমির পুরাতাত্বিক নির্দশণ ও প্রমানাধিকে শুধু অশ্বীকার করা নয়, বরং ঐতিহাসিকভাবে সত্য এবং এটি পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ বিশ্বাস আহত করেছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর এহেন বির্তকিত বক্তব্য শুধু ভূরাজনৈতিক হীনস্বার্থের কারণে উত্থাপিত হয়েছে তা নয়, বরং এটি সমগ্র হিন্দু সম্প্রদায়কে কৃষ্টি, ঐতিহ্য, ও বিশ্বাসকে নষ্ট করার উদ্দেশ্যে হীন চক্রান্ত এবং এধরনের জঘন্য হীন চক্রান্ত কোন ক্রমে সফল হতে দেয়া যায় না।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট আরো মনে করে – একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমান কেপি শর্মা দায়িত্বজ্ঞান হীন ও বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। যা কোনক্রমে বরদাস্ত করা যাবে না। আমরা তাঁর এধরনের অগ্রহনযোগ্য, অপ্রমানিত, অবিশ্বাসযোগ্য বিতর্কিত বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করছি।

মর্যাদা পূরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের জন্মস্থান নিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি’র বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজকের (১৮ জুলাই, শনিবার, সময়ঃ সকাল ১০:০০ টা) এই মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভার নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সম্মানিত সভাপতি ডঃ সোনালী দাস।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায়; হিন্দু মহাজোটের সিনিয়র সহসভাপতি লায়ন বিমল কৃষ্ণ শীল; তপন হাওলাদার; সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দাস; তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অরুন চন্দ্র মজুমদার; আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রিপন দে; সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বিজন সানা; প্রচার সম্পাদক গৌতম হালদার প্রান্ত; সমন্বয়কারী – এডভোকেট তারক চন্দ্র রায়; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার বিশ্বাস; শরিয়তপুর জেলা হিন্দু মহাজোট সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ হেমন্ত দাস; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ কথক দাস; মিঠু রঞ্জন দেব, সঞ্জয় ফলিয়া; যুব বিষয়ক সম্পাদক সমীকরণ বড়াল প্রমুখ।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..