রংপুরে গো-খাদ্যর তীব্র সংকট

শেখ মামুন-উর-রশিদ, রংপুর ॥  রংপুরে গো-খাদ্যর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গরুর খামারিরা গো-খাদ্য সংকটের ফলে চরম বিপাকে পড়েছে। সাম্প্রতিক, বন্যায় জমির ফসল পানিতে নষ্ট হওয়ায় এ সংকট আরও মহামারি আকার ধারণ করেছে। বন্যার কারনে ডেইরি শিল্পেও কৃষকদের ক্ষতির প্রভাব পড়েছে ।

কৃষকদের জমির ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হওয়ায় বেড়েছে খড়ের দাম। যেখানে আগে প্রতি পোন (৮০টি) খড়ের দাম ছিল ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা, সেখানে বর্তমানে প্রতি পোন খড়ের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এছাড়া চোপড়, ভুষি, খৈলের দামও আকাশছোঁয়া। এমতাবস্থায় খামারিরা তাদের গরু কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

কথা হয় ূজেলার পীরগাছা উপজেলার দাদন গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম (৪১) সাথে। তিনি জানান, শখেরবসে তিনটি গরু পালন শুরু করেছিলাম। কিন্তু গো-খাদ্যের এতটাই অভাব ও দাম চড়া যে অনেকটা বাধ্য হয়ে হাটে নিয়ে যাচ্ছি। একই গ্রামের গরু খামারি তোজাম্মেল হক জানান, গরুর খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামার নিয়ে আমি চিন্তায় আছি। যে অনুপাতে গো-খাদ্যের দাম সে অনুযায়ী গরু বিক্রিতো করতে পারবো না। অনেকটা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে কষ্ট করে হলেও খামার ব্যবসা ধরে আছি। তিনি আরও জানান, বিক্রির জন্য আমার খামারের গরুগুলো গত হাটে তুলেছিলাম। দাম তুলনামূলক কম হওয়াতে ফেরত নিয়ে এসেছি।

গো-খাদ্য খুচরা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, সব ধরনের গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দাম আরও বাড়তে পারে। এতে আমাদের খুচরা বিক্রি অনেক কমে গেছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, বিগত বন্যায় ধানের ক্ষতি হওয়ায় খড়ের দাম মাত্রাতিরিক্ত হিসেবে বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি অন্য গো-খাদ্যের দামও কিছুটা বেড়েছে। এতে করে খামারিদের জন্য খামার পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।