যশোরের বারান্দিপাড়ায় পুলিশের সোর্স জাকির হোসেন রাজিব বোপরোয়া

যশোর অফিস: যশোরের বারান্দিপাড়ার পুলিশের সোর্স জাকির হোসেন রাজিব বোপরোয়া হয়ে উঠেছে। জোরপূর্বক জায়গা দখল,এলাকায় মাদক ব্যবস্যা পরিচালনা, নিরীহ লোকদের পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে অর্থ বানিজ্যসহ এমন কোন অপকর্ম নেই যা সে করে না। আর এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে সব জায়েজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না ভুক্তভোগীরা।

একাধিক সুত্রে জানা গেছে, যশোরের ১নং বারান্দিপাড়ার পুলিশের সোর্স জাকির হোসেন রাজিবের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। পুলিশের সোর্স হওয়ায় এলাকার নিরীহ লোকদের মাদকদ্রব দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে দেদারসে অর্থ আদায় করছে। স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকায় মাদ্রকদ্রব বিক্রিসহ অন্যের জমি জোরপূর্বক ভোগদখল করছে। তার এ সিন্ডিকেটে রয়েছে ওই এলাকার মিঠু ওরফে গাঁজা মিঠু, খাদেম,কসাই মণি,পিন্টু টিক্কা,জাহিদ,কালাম বকুলও মাঠপাড়ার পেট মোটা জাকির।

সুত্র বলছে,জাকির হোসেন রাজিব ৫ বছর আগেও শহরের আরএনরোডে সোনালী মেশিনারীতে স্প্রে মেশিনের মিস্ত্রি হিসাবে কাজ করত। তখন তার প্রতিদিনের মুজুরী ছিল মাত্র ৩শটাকা। কিন্ত এলাকায় মাদকদ্রব বিক্রির সিন্ডিকেট পরিচালনা করে সে এখন কাড়ি কাড়ি টাকার মালিক। বারান্দি- সর্দারপাড়ায় রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি। এছাড়া নামে বেনামে রয়েছে লাখ লাখ টাকার সম্পদ।

সুত্র বলছে,বারান্দিপাড়ার চিহ্রিুত মাদক বিত্রেুতা তালেব মারা যাওয়ার পর ওই অঞ্চলের মাদক সিন্ডিকেট এখন জাকিরের নিয়ন্ত্রনে । তালেবের রক্ষিত প্রায়৪০/৫০ লাখ টাকার মাদকজাতীয় দ্রব তিনি হজম করে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সুত্র বলছে,চট্টগ্রামের আগ্রবাদের ছোটপুল এলাকা থেকে ইয়াবা খুচরা দামে কিনে এলাকায় বিক্রি করে জাকিরের অন্যতম সহযোগি কালাম ও শ্যালক বকুল। কুমিল্লা থেকে গাঁজা কিনে এলাকায় সাপ্লাই দেয় আরেক সহযোগী মিঠু ওরফে গাঁজা মিঠু। পুলিশের সোর্স হওয়ার সুযোগে জাকির হোসেন রাজিব সব কিছুই ম্যানেজ করে দেয়। অবাধে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করেও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। কালাম বারান্দিপাড়ার বস্তি এলাকার মোঠো পুকুরে মাছের ব্যবসার আড়ালে মাদকের রমরমা বানিজ্য করছে। এছাড়া বস্তিবাসীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করছে।

সুত্র বলছে, জাকির হোসেন রাজিব শহরতলীর ঝুমঝুমপুর এলাকার নদীর পাড়ে ৫ বিঘা খাস জমি দখল করে নিয়েছে। সেখানে বিভিন্ন গাছ রয়েছে। জাকিরের অপর সহযোগি টিক্কা ভ’মিদস্যু হিসাবে পরিচিত। টিক্কার মাধ্যমে শহরতলীর সুলতানপুরসহ বিভিন্ন এলাকার সরকারি খাস জমি জোর করে ভোগদল করে আসছে। এছাড়া বারান্দি সর্দারপাড়ায় এভার গ্রীণ কোম্পানির ২তলা বিশিষ্ট বাড়ি দখল করে সেটা ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। নিজের নামে ওই জমির জাল কাগজপত্র করে সেটা জায়েজ করার চেষ্ট করছেন। কয়েক মাস আগে ওই ফ্লাটে মেয়েদের দিয়ে যৌন ব্যবসা করা হতো। কিন্তু এলাকাবাসীর তোপের মুখে সে ব্যবসা বন্ধ করা হয়।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, জাকির হোসেন রাজিবের অল্প সময়ের মধ্যে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। এলাকায় নানা অপরাধমুলক কাজ করেও সে রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

অপর এক ব্যক্তি জানায়,পুলিশের সোর্স ছাড়াও জাকির হোসেন রাজিব স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছাঁয়ায় রয়েছে। ওই নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অভিযোগের ব্যাপারে পুলিশের সোর্স জাকির হোসেন রাজিবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়গুলো অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল শত্রুতামুলকভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। এর পর কয়েক দফা ফোন করে তিনি নিজেকে নির্দেষ প্রমাণে বিভিন্ন কথাবর্তা বলেন। এক পর্যায়ে রিপোর্ট না করে তার অফিসে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলার জন্য যশোর কোতয়ালী থানার অফির্সাস ইনচার্জ(ওসি) একেএম আজমলের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।