যথেষ্ট ডিজেল-পেট্রোল মজুত আছে জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই -প্রধানমন্ত্রী

যথেষ্ট ডিজেল-পেট্রোল মজুত আছে জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই -প্রধানমন্ত্রী

যথেষ্ট ডিজেল-পেট্রোল মজুত আছে জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে জনগণের মনে আতঙ্ক কাটাতে সব উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জ্বালানিমন্ত্রী এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, যথেষ্ট ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের যথেষ্ট মজুত আছে। এ নিয়ে জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনোভাবেই যেন তেল মজুতদারি করতে না পারে। এ ব্যাপারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।

এদিকে জ্বালানি তেল রেশনিংয়ের প্রথম দিনে শনিবার সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোয় যানবাহনের প্রচণ্ড ভিড়, হুড়াহুড়ি এবং বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। চাহিদামতো তেল দিতে না পেরে রাজধানীর বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশন দুপুরের পর বন্ধ করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঢাকা ও আশপাশে ১২৫টির মতো ফিলিং স্টেশন আছে। তেল না থাকায় দুপুরের মধ্যে ১০০টির বেশি ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

শুক্র ও শনিবার তেলের ডিপোগুলো বন্ধ ছিল। আজ ডিলার, ফিলিং স্টেশন ও ডিপোগুলো থেকে তেল দেওয়া হবে। জ্বালানি বিভাগ আজ থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোকে আগের বছরের এই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম তেল দিতে নির্দেশনা দিয়েছে বিতরণ কোম্পানিকে। রমনা ফিলিং স্টেশনের মালিক নাজমুল হক শনিবার যুগান্তরকে জানিয়েছেন, সকালে ডিপোগুলো হিসাব করে তেল দেওয়ার পর দুপুরের দিকে ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক : দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানিমন্ত্রী, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও জ্বালানি সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে পুরো পরিস্থিতি জানতে চান। এ সময় তাকে বলা হয়, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৯ মার্চ ডিজেলের দুটি জাহাজ আসছে। এরপর আরও দুটি জাহাজ আসবে। হরমুজ প্রণালি আংশিক খুলে দিলে জ্বালানি তেলের বাজার কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এ সময় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করে দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বলা হয়, এখন প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি করে ১৮ থেকে ২০ টাকা লোকসান হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দাম বাড়ানোর চেয়ে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে এক ব্রিফিংয়ে জ্বালানিমন্ত্রী অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সরকার সব উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি তেলের অতিরিক্ত দাম নিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, রোববার থেকে ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে দেখা হবে তারা নিয়ম অনুযায়ী তেল দিচ্ছে কি না।

চালু ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন : রাজধানীর একাধিক পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, কিছু পাম্প বন্ধ। আবার যেগুলো খোলা আছে, সেগুলোয় দীর্ঘ লাইন। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের লাইন ছিল বিশাল। তাদের দুর্ভোগ ছিল চরমে। আমাদের ডেমরা প্রতিনিধি জানান, রাজধানীর ডেমরায় তেল সংকটে অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু সময়ের জন্য দু-একটি খোলা থাকলেও সেখানে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলচালকদের দীর্ঘ লাইনে ছিল চরম ভোগান্তি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মোটরসাইকেলে ২ লিটার পেট্রোল বা অকটেন দিতে গিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের বোঝা পড়েছে পেট্রোল পাম্প মালিকদের ঘাড়ে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।