মাগুরা জেলার শালিখায় আকাশে বাতাসে নলেন গুড়ের সুবাস

শীতকাল মানেই খেজুর গুড়। আর বাঙালির শীত মানেই নলেন গুড়ের সন্দেশসহ রকমারী মিষ্টি। নলেন গুড়ের মিষ্টি খেতে ভালবাসে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া বিরল।

বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের খেজুরের গুড়ের রয়েছে শত বছরের ইতিহাস আর ঐতিহ্য। ঐতিহাসিক সতীশ চন্দ্র মিত্রের ‘যশোর খুলনার ইতিহাস’ গ্রন্থ সূত্রে জানা যায়, একসময় যশোর অঞ্চলের অন্যতম প্রধান কৃষিজ পণ্য ছিল খেজুরের গুড়। এই গুড়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল অর্থনৈতিক নানা কর্মকাণ্ড।

এই অঞ্চলের মাটি সাধারণত বেলে দো-আঁশ। আর পানিতে লবনাক্ততা নেই। ফলে গাছের শিকড় অনেক নিচে পর্যন্ত যেতে পারে। সব মিলিয়ে জলবায়ু উপযোগী যশোরের খাজুরা, বাঘাপাড়া, মনিরামপুর, শার্শা ও মাগুরার শালিখা অঞ্চলের খেজুরের রস বেশি সুগন্ধি ও সুস্বাদু হয়ে থাকে।

জানা যায়, পুরো বঙ্গে নলেন গুড়ের সন্দেশের ৯৯ শতাংশ যশোর অঞ্চল থেকেই সরবরাহ করা হতো। উপমহাদেশের বিখ্যাত কলকাতার ভিমনাগের সন্দেশ তৈরি হয়েছে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের নলেন গুড় দিয়েই।

মাগুরাতে এখন খেজুরগুড় উৎপাদনের মহোৎসব চলছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে এই গুড় অনেক শক্তিশালী করে রেখেছে। গুড় বিক্রির টাকায় স্থানীয় কৃষকরা আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছেন।

মাগুরার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খেজুর গাছ থেকে নামানো রস থেকে চাষিরা গুড় উৎপাদন শুরু করছেন। প্রতিদিন আহরিত খেজুর রস থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে উন্নতমানের খেজরগুড়। এসব গুড় চোখে পড়লেই জিভে পানি চলে আসে। এসব গুড় দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি খেতেও সুস্বাদু।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।