বিশেষ প্রতিবেদকঃ সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। তাঁরা মনে করেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আজ শনিবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ আয়োজিত বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। এ সময় বেশির ভাগ বক্তাই বর্তমান সরকারের সহায়তায় নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দেন। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কাছে বেশকিছু দাবির কথাও তুলে ধরেন তাঁরা।
কিছু বিষয়ে ঐকমত্য ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে না বলে মত দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন।
এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কোনো যুদ্ধাপরাধী, কোনো ভোট ডাকাত বা যারা টাকা দিয়ে বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোট কিনে নেয় এ রকম কাউকে আমরা দেখতে চাই না।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তাহলে তো আর একতরফা নির্বাচন হতে পারে না।’
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিকল্প নেই জানিয়ে বক্তারা বলেন, এ জন্য সরকারের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনিভাবে বিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক দলের দায়ও কম নয়।
এ বিষয়ে নিউজ টুডে’র সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সব রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়, তাহলে সেই নির্বাচনে কারচুপির সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
সিনিয়র আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি বলেন, ‘সবাইকে পারটিসিপেট (অংশগ্রহণ) করতে হবে। লটারিতে যদি জিততে চান, লটারির টিকেট একটা কিনতেই হবে। লটারির টিকেট না কিনলে পরে কোনো সময় লটারি জিততে পারবেন না।’
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন বলেন, ‘আমরা ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক) নির্বাচন চাই, অতীতে যাঁরা ভুল করেছেন তাঁরা নির্বাচনে আসেন। বাংলাদেশ উইল নট ওয়েট ফর এনিওয়ান।’
এদিকে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন যতটা সম্ভব কম সময়ের জন্য করার পক্ষে মত দেন দুই বক্তা। এদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাখতে হবে। চূড়ান্ত বিকল্প বা অনিবার্য বিকল্প হিসেবে হয়তো সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা যেতে পারে।’




